উপাচার্যের বিদায়ের আগে পদোন্নতি স্থায়ীকরণ নয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের মেয়াদকালের শেষ সময়ে আর কোনো নিয়োগ, চাকরি স্থায়ীকরণ বা পদোন্নতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের দাবির মুখে গতকাল শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বর্তমান উপাচার্য।

বিএসএমএমইউর শিক্ষক ও চিকিৎসকরা জানান, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ঘোষণার পর থেকেই অভিযোগ ওঠে, বর্তমান উপাচার্য তার আমলে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও চিকিৎসকদের পদোন্নতি দিতে যাচ্ছেন। মেয়াদাকালের শেষ সময়ে এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি না দিতে গত বৃহস্পতিবার থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষক ও চিকিৎসকরা। গতকালও এ নিয়ে তারা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষক-চিকিৎসকদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষক-চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে উপাচার্য গতকালের একাডেমিক কাউন্সিল সভা স্থগিত করেন এবং ২২ মার্চ পূর্বনির্ধারিত সিন্ডিকেট সভা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চাকরি স্থায়ীকরণের মৌখিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের একটি মিটিং করছিলাম। সেখানে কিছু পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের কথা ছিল। মিটিং চলাকালে কিছু চিকিৎসক এসে বলল, এই মিটিং করার দরকার নেই। তারা চাইছেন যেহেতু আমার শেষ সময়, আমি যেন কোনো কিছু না করি। আমিও আমার শেষ সময়ে কোনো ধরনের ঝামেলায় জড়াতে চাই না, তাই আমি মিটিং স্থগিত করেছি। নিয়োগসংক্রান্ত সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার টিটো দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সামনে দুদিনের মাথায় সিন্ডিকেট সভা করার কথা ছিল বর্তমান উপাচার্যের। সাবেক উপাচার্য কনককান্তি স্যারও যখন যান, তখন তিনিও কোনো সিন্ডিকেট সভা করে যেতে পারেননি। কারণ যে ভিসি বিদায় নিচ্ছেন, তিনি শুধু রুটিন ওয়ার্ক করে যাবেন। পরবর্তী ভিসি এসে আগের ভিসির রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের যেসব চিকিৎসক অ্যাডহকে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের স্থায়ী করার জন্য তড়িঘড়ি করছেন।’

ডা. আরিফুল আরও বলেন, ‘আমরা স্যারকে বলেছি, তাড়াহুড়োর কিছু নেই। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে। তিনিও যাতে সসম্মানে বিদায় নিতে পারেন, সেটা আমাদেরও দায়িত্ব। তিনি আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। বিদায়ের আগে তিনি আর কোনো পদোন্নতি বা স্থায়ীকরণসহ কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন না বলে জানিয়েছেন।’

২৮ মার্চ বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে।

চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য : বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে গতকাল কর্মচারীরা বর্তমান উপাচার্যকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে ৯টায় শুরু হওয়া কর্মচারীদের অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি বেলা ১টায় স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরে আলম দিপু সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ কর্মচারী চাকরি নীতিমালা। ফলে এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে। ১৬তম গ্রেডের ওয়ার্ড মাস্টার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ওয়ার্ডবয় থেকে সেকশন অফিসার পর্যন্ত হয়েছেন। তিন বছর ধরে নির্বাচিত তিনটি সংগঠনের নেতারাসহ সব কর্মচারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন টালবাহানা করে কেবল কালক্ষেপণ করেছে।

এই কর্মচারী নেতা আরও বলেন, এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা গতকাল সকাল ৯টায় উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে বেলা ১টায় অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিন সিদ্দিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে নীতিমালা প্রণয়নের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ১৮ মার্চ পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার একটা খসড়া জমা দেওয়া হবে। তবে ওই দিন নীতিমালা প্রণয়ন করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।