গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও দুজন মারা গেছেন। এর মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তার নাম তায়েবা (৩)। অন্যজন হলেন মনসুর আলী আকন (৩২)। এ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হলো।
গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারা যান মনসুর। রাত পৌনে ৮টার দিকে মারা যায় শিশু তায়েবা। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. হোসাইন ইমাম ইমু ও জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম।
ডা. ইমু জানান, মনসুরের শরীরের প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। এর আগে সোলায়মান মোল্লা (৪৫) নামে একজন মারা গেছেন। বর্তমানে ২৯ জন ভর্তি আছেন।
মনসুরের বড় ভাই আবু জাফর জানান, তাদের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সালদাহ উত্তরপাড়া গ্রামে। মনসুর রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ঘটনার সময় তিনি কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রী দিনা আক্তার ও দুই মেয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
শিশু তায়েবার বিষয়ে ডা. তরিকুল জানান, তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
তায়েবার চাচা মো. আসাদ জানান, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী উপজেলায়। মো. সজল ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে সে। এ ঘটনায় তায়েবার বড় ভাই তাওহিদও (৭) দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি আছে। তায়েবার বাবা সজল গাড়িচালক। মা সুমাইয়া গৃহিণী। ঘটনার সময় দুই ভাইবোন রাস্তায় খেলছিল। তখনই বিস্ফোরণ থেকে দগ্ধ হয় তারা।
কালিয়াকৈর উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার আহম্মেদ জানান, মনসুরের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে একই ঘটনায় দগ্ধ ভাঙারি ব্যবসায়ী সোলায়মান মোল্লা ঢাকায় হাসপাতালে মারা গেছেন। তাকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগালা ইউনিয়নের নিজ গ্রাম বায়রা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধি। গতকাল হাটবায়রা হলদারপাড়ায় গিয়ে জানা গেছে, হতদরিদ্র সোলায়মানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় কাশিপুর বাজার থেকে চাঁদা তুলে শুক্রবার রাতেই সোলায়মানকে দাফন করে।
ছেলে মশিউর রহমান জানান, তার ছোট চাচি গার্মেন্টসকর্মী শিল্পী খাতুন (৩৫) ও তার দুই ছেলে নীরব (১০) ও নূরুননবী (৪) একই বাসায় থাকত। এ ঘটনায় তারাও দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কালিয়াকৈর উপজলার তলিরচালা এলাকার শফিক খানের বাসাবাড়িতে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফারণে অগিকা-ের ঘটনা ঘটে। ওই আগুনে দগ্ধ হয় শিশু, নারী-পুরুষসহ ৩৬ জন। তাদের মধ্যে ৩২ জন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে এবং দুজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি আছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।