৬৯-এও মডেলিং দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন গীতা প্রকাশ

স্বপ্নপূরণের পথে সব বাধা অতিক্রম করে যেতে হয়। বয়স যদি সেখানে সমস্যা তৈরি করে, তবে সেগুলোও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে হয়। কারণ বয়স সংখ্যা মাত্র। এই ধারণায় বরাবর বিশ্বাসী গীতা প্রকাশ। তাই ৬৯ বছর বয়স হলেও মডেলিংয়ের দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন তিনি।

গীতা পেশায় চিকিৎসক। সংসার আর কেরিয়ার নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত। তবুও শত ব্যস্ততার মাঝে নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসক হিসাবে গীতার পরিচিতি যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনই পরিচিতি রয়েছে মডেলিং জগতে। কিন্তু কোনো দিন মডেল হতে পারবেন, তা বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান গীতা।

গীতা বলেন, 'ছোটবেলায় ভাবতাম মডেল হওয়ার জন্য যে সব গুণ থাকা প্রয়োজন, তার কিছুই আমার মধ্যে নেই। তাই সে সব নিয়ে ভাবিনি।' তার পর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। পড়াশোনা শেষ করার পর সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসাবে যোগ দেন গীতা। পরে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা শুরু করেন।

গীতা জানান, যখন তার ৫৯ বছর বয়স তখন তার কাছে একজন রোগী এসেছিলেন। ইতালির বাসিন্দা তিনি। পেশায় আলোকচিত্রশিল্পী। তিনিই নাকি গীতাকে প্রথম মডেল হিসাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। গীতা বলেন, 'আমি তো জীবনে কোনোদিন মডেলিং করিনি। তাই কী করব বুঝতে পারছিলাম না। আমার কাছে নিজের ভালো কোনো ছবিও ছিল না। ইতালিতে ফিরে গিয়ে সেই আলোকচিত্রশিল্পী আমার কয়েকটি ছবি চেয়ে পাঠালে আমার সন্তানেরাই তাদের মতো পছন্দ করে কিছু ছবি পাঠিয়ে দেয়।' গীতা জানান, ইতালির আলোকচিত্রশিল্পীর কথা মেনে মডেল হিসাবে ফটোশুট করেন তিনি। ৫৭ বছর বয়সে তার প্রথম কাজ।

বয়স বেশি হওয়ার কারণে কটাক্ষের শিকার হতে পারেন, এমনটাই ভেবেছিলেন গীতা। কিন্তু প্রথম কাজের পর একের পর এক প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি। তরুণ তাহিলিয়ানি, অঞ্জু মোদি এবং গৌরব গুপ্তের মতো বহু খ্যাতনাম পোশাকশিল্পী এবং নামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন গীতা। তবে মডেলিংয়ের কারণে নিজের পেশার কোনো ক্ষতি করতে রাজি নন তিনি।

সাক্ষাৎকারে গীতা বলেন, 'আমি পেশায় চিকিৎসক। সে কাজে কোনো কমতি রাখি না। সপ্তাহান্তে আমার যখন ছুটি থাকে, তখনই আমি মডেলিং সংক্রান্ত কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকি। বর্তমানে নারীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে গীতা বলেন, 'তুমি যখন কিছু করার স্বপ্ন দেখ, তখন সেই পথে হাঁটার সময় যে রকম সুযোগ পাবে সব গ্রহণ কর। ফিরিয়ে দিও না।'

গীতার মতে, কাজের পাশাপাশি নিজের ভালো লাগার কাজ করতে কোনো বাধা নেই। বয়স কোনো সীমারেখা হিসাবে কাজ করে না। স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স নেই বলেই মানেন ১২ বছর ধরে মডেলিং জগতে থাকা ৬৯ বছরের গীতা।