বিরোধীহীন নির্বাচনে মসনদের অপেক্ষায় পুতিন

রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১৭ মার্চ) শেষ হওয়া এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় গত শুক্রবার। ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ছয় বছরের জন্য ক্ষমতায় আসবেন।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম দুই দিনে অর্ধেকের বেশি ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। তবে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনাও ঘটেছে। ভোটকেন্দ্রে হাতবোমা বিস্ফোরণ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভও হয়েছে কোনো কোনো স্থানে।

এদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধও ভোটের ওপর একটি ছায়া ফেলেছে। রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের কিছু অংশে যে নির্বাচন হচ্ছে তাকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ বলে গণ্য করছে কিয়েভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন আবারও ক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত। যদিও নির্বাচনের তৃতীয় দিন দুপুরে প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির হাজারও সমর্থক   ভোটকেন্দ্রে প্রতীকী বিক্ষোভ করেছে। 

রাশিয়ার ওপর পুতিনের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতির কারণে নির্বাচনে তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত। এদিন ভোট সম্পন্ন হওয়ার কয়েকঘণ্টা আগে দেশব্যাপী ভোটদানের হার ২০১৮ সালের ৬৭.৫% শতাংশকে ছাড়িয়ে যায়। অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থকদের প্রতিবাদের আহ্বান ও বিক্ষোভে রাশিয়ার ১১৪ মিলিয়ন ভোটারদের জন্য কতজন অংশ নেন তারও কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গের কিছু ভোটকেন্দ্রে দুপুরের দিকে তরুণদের ভোটারদের ভোট দিতে দেখেছেন এবং সেখানে কয়েকশ, এমনকি হাজারও ভোটার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল।

তবে অ্যালেক্সি নাভালনির দুর্নীতিবিরোধী ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা রাশিয়া এবং পুরো বিশ্বকে দেখিয়েছি পুতিন একা রাশিয়া নন। তিনি রাশিয়ার ক্ষমতা দখল করেছেন। আমরা ভয়কে পরাজিত করেছি, নির্জনতা পরাজিত করেছি। অনেকে দেখেছেন তারা একা নন।

কারাগারে অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু দেশটিকে তার শক্তিশালী বিরোধী নেতা থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে পুতিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপিআর) প্রধান লিওনিড স্লুটস্কি, কমিউনিস্ট প্রার্থী নিকোলে খারিতোনভ এবং নিউ পিপলের প্রতিনিধিত্বকারী ভ্লাদিস্লাভ দাভানকভ।