হামাসের ‘প্রলম্বিত’ দিন

বাইবেলের আদিপুস্তকের প্রথম পুস্তক পয়দায়েশ বা সৃষ্টিতত্ত্ব (জেনেসিস)। মুশির পাঁচ পুস্তকের (পেন্টাটুক) একটি এবং প্রথমটি। এ পুস্তকেই বাবিল মিনার বা টাওয়ার অব বাবিলের গল্পটি আছে। এ কাহিনি শামপুরাণের অতিপরিচিত কাহিনি এবং প্রজন্মপরম্পরায় পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে শ্রুত এবং কথিত। পুরাতত্ত্ব এবং নৃতাত্ত্বিক ভাষাতত্ত্বের বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি আসলে আসিরীয়-বেবিলনীয় পুরাণের কাহিনি। ইসলাম, খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব, ইহুদি মতবাদ তিন বিশ্বাসের লোকই এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্য ধর্মাবলম্বীরাও এ কাহিনি জানে; যেমন মহাভারতের, রামায়ণের এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কাহিনিগুলো ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সব ধর্মের লোক জানে। আর মিনার বাইশ বা টাওয়ার টুটু জর্ডানে, সিরিয়ার সীমান্তে অবৈধ মার্কিন ঘাঁটি আল তানাফের কাছেই। সেখানে একটি হামলা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিবরণ অনুযায়ী অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স যার মধ্যে আছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়া ও ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া বিদ্রোহীরা এ হামলার জন্য দায়ী। এদের সঙ্গে ইরানের সংযোগ আছে। টাওয়ার টুটুতে তথা মিনার বাইশে হামলার ঘটনা এখনো  ধোঁয়াচ্ছন্ন। অনেক কথাই এ বিষয়ে উঠেছে। সত্যিই মিনার বাইশে হামলা হয়েছিল নাকি সিরিয়ার আল তানাফ ঘাঁটিতে হয়েছিল! জর্ডানের সাংবাদিকরাই এ প্রশ্ন তুলেছেন। পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম অনেক কথাই স্পষ্ট করে বলছে না। জর্ডানি সাংবাদিকরা মিথ্যা বলছেন? নাকি মার্কিনি মূলধারার গণমাধ্যম?

জর্ডানে প্রচুর ফিলিস্তিনি থাকলেও জর্ডানের রাষ্ট্রপক্ষ কিন্তু সে দেশে মার্কিন ঘাঁটি করতে দিয়েছে। এতে আবার ইসরায়েলের মদদ আছে। ফলে ইসরায়েলের পক্ষে এ গোলমালে হরিবোল দেওয়া বিচিত্র কিছু নয়। ফলস্ ফ্ল্যাগ অপারেশন, মার্কিন সামরিক বস্তুতে, এর আগেও তারা করেছে। কাজেই মিনার বাইশের ঘটনা সন্দেহের বাইরে নয়। কারণ টাওয়ার টুটু সিরিয়ার আল তানাফ ঘাঁটিকে সমর্থন জোগায়। কোনো না কোনো ছুতায় আল তানাফকে টিকিয়ে রাখা এবং পশ্চিম এশিয়ায় আধিপত্য বজায় রাখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। গাজায় তারা ইসরায়েলকে সমর্থন জোগাচ্ছে। কাজেই মিনার বাইশে বা আল তানাফে একটা হামলা তাদের দরকার। জর্ডানে মিনার বাইশে হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে। ইরান এবং আরবরা এর জন্য প্রস্তুত। রাশিয়াও ইউক্রেন ফ্রন্ট হয়ে ফিলিস্তিনের হামাস, পিএলও এবং অন্যান্য বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে কূটনৈতিক ঘটকালির প্রক্রিয়ায় জড়িত হয়েছে।

এক অর্থে সারা বিশ্বই এখন গাজা বা ইউক্রেন। কোথাও দৃশ্যত যুদ্ধে লিপ্ত ইসরায়েল, পেছনে যুক্তরাষ্ট্র; কোথাও যুদ্ধ বাঁধিয়েছে ইউক্রেন আর তার পেছনে ন্যাটো আর ন্যাটোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ানে যুদ্ধ বাঁধানোর উপক্রম করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর গত পঁচাত্তর বছরে বিশ্বের যেখানে যেখানে যুদ্ধ বেঁধেছে তার সবকটির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রায় ইসরায়েল তার পাশে থাকে। যুক্তরাজ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যার কোনো স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নেই, যুক্তরাষ্ট্রের সব কাজে জি হুজুর বলা তার ‘রাষ্ট্রধর্ম’। ইউক্রেনেও সে আছে, ফিলিস্তিনেও ইসরায়েলের পক্ষে সে আছে, মার্কিনিদের জুড়ি হিসেবে।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি এখনো হয়নি। আলোচনা চলছে তো চলছেই। রোজার মাস শুরু হয়েছে। জেরুজালেমে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন পশ্চিম এশিয়ার সংশ্লিষ্টরা। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল আকসা। রমজান মাসে সেখানে যাতায়াত ও পরিদর্শনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস। আর ইসরায়েল বলছে, হামাস রমজান মাসে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আল আকসাকে ইহুদিরাও তাদের পবিত্রতম স্থান মনে করে। এখানেই ছিল কথিত সুলেমানি মন্দির। প্রায়ই জায়গাটি ইসরায়েল-ফিলিস্তনি সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান প্রেক্ষিতে সেখানে স্থানটি ঘিরে সংঘর্ষ-সংঘাত বৃদ্ধি পেতে পারে। 

বিবিসি বলেছে, আপাতত আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের পরিবেশ শান্ত। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের মনে চিন্তা-যুদ্ধ নিয়ে। ফিলিস্তিনিরা নিয়মিত রমজানের ঐতিহ্য উদযাপন এবং উপভোগ করতে পছন্দ করে। কিন্তু এ বছর তার কিছুই হবে না। রোজার শুরুতে একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাস তার অবস্থানে অটল। তারা চুক্তি চায় না। আর হামাস বলছে, ইসরায়েল তা চায় না। হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শেষ দফার এখনো রফা হয়নি। আলোচনা চলছে, এর মধ্যস্থতাকারী দেশ কয়েকটি। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিসর। কায়রোতে আলোচনায় যোগ দিয়েছে হামাসও। ৩ মার্চ বৈঠকের আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইসরায়েল দাবি মেনে নিলে আগামী ২৪ অথবা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি হবে।’

আর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই। কারণ হামাসের দুই শর্ত। হামাসের প্রথম শর্ত হলো ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে কোনো ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে না। দ্বিতীয় শর্ত হলো, গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর গ্যারান্টি দিতে হবে। হামাসের এক প্রতিনিধি সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথাবার্তা চলছে। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি হবেন না। হামাস কেন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয় তা ব্যাখ্যা করেছেন দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এল মাসরি। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হওয়া ইসরায়েলের জন্য সহজ। কিন্তু হামাসের জন্য খুব কঠিন। কারণ, হামাসকে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। একদিকে গাজার বাসিন্দারা বিরতির জন্য উদগ্রীব। তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অন্যদিকে ইসরায়েলের শর্তে রাজি হওয়া মানে গাজাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া। ইসরায়েল গাজাকে বাসের অনুপযোগী করে দিতে চায় এবং ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়িত করতে চায়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ৩১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি খাবারের অভাবে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। এ পরিস্থিতিতে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হতে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। দিনে দিনে জনমতও ইসরায়েলের বিপক্ষে যাচ্ছে। গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে লন্ডনের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। তাতে অংশ নেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনও। কিন্তু যুদ্ধবিরতি এখনো হয়নি।

আল আকসা মসজিদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রেখেছে ইসরায়েলি পুলিশ। মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রত্যেক গেটে কন্ট্রোল অ্যাক্সেস চালু করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল এ অংশসহ পূর্ব জেরুজালেমে তাদের দখলদারিত্ব কায়েম করে। স্থানটি ফিলিস্তিনিদের কাছে বিজাতীয়, বিধর্মীয় দখলদারির কারণেই সংগ্রামেরও প্রতীক। এখানে প্রায়ই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর সংঘর্ষের ঘটনার বেশিরভাগই হয় রমজান মাসে। বিবিসি বলছে, এ বছর রোজার মাস কীভাবে কাটবে তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের ওপর। তারা কী ধরনের উদ্যোগ বা কৌশল নেয় সেটি দেখার বিষয়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য বলেছেন, রমজানের প্রথম সপ্তাহে মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবে। গাজা যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জেরুজালেমে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। রমজান মাসে জুমার নামাজ পড়তে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় যাওয়ার জন্য ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশি চৌকি পার হতে হবে।  ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, রমজানে প্রায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন উগ্রপন্থিদের কারণে সহিংসতা ছড়ায়। এবার তারা সেটা প্রতিরোধের জন্য কাজ করছে। ইসলামি ওয়াকফ কাউন্সিলের সদস্য ও আল আকসা বা হারাম আল শরীফের পরিচালক বলেছেন, কয়েক বছর ধরে পশ্চিম তীর থেকে যারা আল আকসায় যেতে ইচ্ছুক তাদের অনুমতি দিচ্ছে ইসরায়েল। কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা কিন্তু ঘটেনি। অতএব ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উগ্রপন্থি বলতে কাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে? গাজাবাসীকে কি তারা হামাসের লোক মনে করে! এবার সারা বিশ্ব খেয়াল করবে জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদকে ঘিরে কিছু ঘটে কি না। 

গাজার মুসলমানদের জন্য এবারের রমজান মাস হৃদয়বিদারক, শোকে ঢাকা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় এখনো গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজার মানুষ অসুখে ভুগছে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। রমজানেও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা থামেনি, বর্বরতা কমেনি। গাজার মুসলমানরা সাহরি ও ইফতারের জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। আল জাজিরাতে প্রকাশিত ইমান আলহাজ আলির বিবরণ অনুযায়ী, ‘শান্তিতে একটু ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজি। বলা যায়, এসব আমাদের জন্য এখন দুষ্প্রাপ্য। ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান এবং বিস্ফোরণের ভয়ানক শব্দে আমি চোখ বন্ধ করে গাজার জাঁকজমকপূর্ণ রমজানের কথা স্মরণ করি। ভয়ানক বিস্ফোরণের মধ্যেও অতীতের রমজানস্মৃতি আমাকে প্রাণবন্ত রাখে।’ ‘... এবার এ পবিত্র মাসে আমরা শান্তিতে ইবাদত করতে পারছি না।... বাচ্চাদের শুভেচ্ছামূলক গান প্রতিস্থাপিত হয়েছে ইসরায়েলি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ও ঝলকানিতে। শিশুদের খেলাধুলা ও আনন্দ-হুল্লোড়ের শব্দ প্রতিস্থাপিত হয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপাপড়া মানুষের আর্তচিৎকারে। প্রাণবন্ত এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে কবরস্থানে। ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মসজিদগুলোতে মানুষের ভিড় নেই। রাস্তায় লোকজনের ভিড় নেই।... মানুষ ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির জন্য আনন্দ-উল্লাসে একত্রিত হয় না। একত্রিত হয় মৃতদের কবর দিতে।... পৃথিবী ফিলিস্তিনের মানুষকে পরিত্যাগ করেছে। পৃথিবী ইসরাইলকে পবিত্র রমজান মাসেও মুসলিম নিধন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।’

বাইবেলের আদি পুস্তকের বিবরণ অনুযায়ী, ইউশা ইবনে নুনের জেরিকো আক্রমণের দিনটিকে সদাপ্রভু স্বাভাবিক দিনের চেয়ে লম্বা করে দিয়েছিলেন; সূর্যাস্ত হতে অনেক সময় লেগেছিল। সদাপ্রভু এটা করেছিলেন, যাতে ইউশার নেতৃত্বে ইহুদিরা জেরিকো দখল করে নিতে পারে। এবার সদাপ্রভু হামাসের জন্য একটি প্রলম্বিত দিন দিয়েছেন। সেই দিনটি হলো ৭ অক্টোবর। জেরিকোর ঘটনা এবার গাজায় ঘটেছে। গাজায় সূর্য এখনো অস্ত যায়নি, সেখানে হামাসের প্রলম্বিত দিন।

লেখক: সাংবাদিক

tarik69@gmail.com