স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস কাল

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫৩তম বার্ষিকী আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ মার্চ)। ১৯৭১ সালের এই দিনে জয়দেবপুরের (গাজীপুর) ভাওয়াল রাজবাড়ীতে তৎকালীন সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য আসবে এমন খবর পেয়ে জয়দেবপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড গড়ে তোলে। ওই সময় জয়দেবপুর সেনানিবাসের অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল মাসুদ ও সহঅধিনায়ক ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। তখন গাজীপুরের সুপরিচিত রাজনৈতিক নেতা (সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত) প্রয়াত শামসুল হক পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে নেতৃত্ব দিতে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত হাবিব উল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি হাইকমান্ড এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। নেতাদের পরামর্শে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বহুসংখ্যক ব্যারিকেড তৈরি করে। দুপুরের দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য করে সেনানিবাসে ঢুকলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুনরায় রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ছাত্র-জনতা জয়দেবপুর রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ে মালবাহী ট্রেনের ওয়াগন ফেলে বন্দুক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।