কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও শিশু দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামী সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ অল্প লোভ-লালসায় অনেক কিছু হারায়। আমি ১৫ বছর কালীগঞ্জে দায়িত্বে ছিলাম। কালীগঞ্জের মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছি। কোনো দিন কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কিছু করিনি। কিন্তু আমার অনেক কর্মী দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দলের বিপক্ষে গিয়ে দলের আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে কাজ করছেন। আমি তাদের প্রতি প্রতিহিংসা পোষণ করিনি। তারা যদি ওখানে গিয়ে ভালো থাকেন, ভালোভাবে কাজ করেন অসুবিধা নেই। যারা নৌকা মার্কার বিপক্ষে গিয়ে নির্বাচন করেছেন, তারাও আমাদের লোক কিন্তু নৌকার নির্বাচন করেছেন তারা আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক।’ তিনি বলেন, ‘আমার নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাস করেছেন তারা স্বতন্ত্র হিসেবে থাকো। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা করবে তা মেনে নিতে পারব না। তিনি আশা রাখেন সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একত্রে কাজ করবেন।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মুয়াজ্জেম হোসেন পলাশ। কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও কালীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রবিন হোসেন। কালীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিকেল ৩টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আখতারুজ্জামান এমপি।
আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি অনেক বিষয়ে আগে এত কর্ণপাত করিনি। আমি এই এলাকার এমপি। আমার কথায় কালীগঞ্জের প্রশাসন ও থানা যেকোনো বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। অন্য কোনো এমপির হুমকি-ধুমকিতে কোনো কাজ হবে না। আমি কালীগঞ্জের উন্ননের দায়িত্ব পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করে যাব।’
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি মফিজুর রহমান খান। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদ আব্দুল গনি ভূঁইয়া। জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা।