চলন্ত মেট্রোতে সন্ত্রাসী হামলা হলে বা আগুন লাগলে কী করবেন?

চলন্ত মেট্রোরেলে কেউ একজন সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা করছে অথবা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে—এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যাত্রী হিসেবে আপনি কী করবেন? কীভাবে আপনার কাছে পৌঁছাবে সাহায্য? আপনিই বা কেমন করে পরিস্থিতির কথা জানাবেন নিরাপত্তাকর্মীদের। 

এ সব কিছু জানাতে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে এক কর্মশালার আয়োজন করেছিল মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ওই কর্মশালায় মহড়া করে দেখানো হয়েছিল, একজন দুষ্কৃতকারী আগুন নিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলার চেষ্টা করছে। তখন যাত্রীদের একজন রেলের দরজার সঙ্গে থাকা লাল বোতামে চাপ দেন। লাল বোতামটি একটি কাভারে ঢাকা থাকে। প্রথমে কাভারটি তুলতে হবে। বোতামটি তিন সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে সরাসরি রেলের চালকের সঙ্গে কথা বলা যাবে। এভাবে রেলের চালকের সঙ্গে কথা বলে দুষ্কৃতকারীর বিষয়ে তাকে জানানো হয়।

রেলের চালক দুষ্কৃতকারীর তথ্য পেয়ে তা অপারেশন কন্টোল সেন্টারে (ওসিসি) খবর দেন এবং মাইকিং করে ওই বগির যাত্রীদের বিষয়টি জানান। পরের স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। ততক্ষণে ওসিসি থেকে খবর চলে যায় ডিজস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমের (ডিএমটি) কাছে। ডিএমটি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নিয়ে পরের স্টেশনে ট্রেন থামার আগেই উপস্থিত হয়ে যায়। তারা যাত্রীদের উদ্ধার করে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

জরুরি প্রয়োজনে রেলের ভেতর থেকে যাত্রীদের দরজা খোলার ব্যবস্থাও আছে। সে ক্ষেত্রে দরজার পাশে বাঁয়ে নিচের দিকে থাকা বক্সের বোতাম চেপে ধরে বাঁ দিকে ঘোরাতে হবে। তারপর কাভারটি টেনে খুলতে হবে। কাভার খোলার পর হাতলটি ডানে ঘোরাতে হবে। এরপর ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলতে হবে।

metro-exting

মেট্রোরেলে দেখা যায়, প্রতিটি বগির ভেতরে সামনে ও পেছনের হাতের ডান পাশে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের স্টিকার লাগানো আছে। স্টিকারে অ্যারো দিয়ে দেখানো হয়েছে ডান পাশের সিটের নিচে রাখা হয়েছে ফায়ার এক্সটিংশুইশার। আপৎকালে মেট্রোর যাত্রীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

মেট্রোরেলে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। যারা প্রতিদিন অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে বসে থাকতে বাধ্য হতেন তারা সবাই স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন। তারা একটু ওরা পথে হলেও মেট্রোতেই যাতায়াত করছেন। 

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে গত ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করেন তিনি। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুরোদমে চালু হয় ঢাকা মেট্রোরেল। এদিন চলাচলের সময়সূচি অপরিবর্তিত রেখে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সবক’টি স্টেশনে মেট্রো ট্রেন থামতে শুরু করে। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশন রয়েছে।

তৃতীয় ধাপে গত ২০ জানুয়ারি থেকে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন এ সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে।