সৌদিতে ইফতারে কী খাওয়া হয়?

হিজরি বছরের গণনা অনুযায়ী নবম মাসকে ‘রমজান’ মাস বলা হয়। এই মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মাসব্যাপী ফরজ রোজা পালন করে থাকেন। পূণ্য অর্জন ও আত্মশুদ্ধির আশায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা পানাহার থেকে বিরত থাকেন। মাগরিবের আজান শুনে মুখে খাবার তুলে রোজা ভাঙেন। রোজা ভাঙার এই সময়কে বলা হয় ‘ইফতার’।

জনসংখ্যা বিষয়ক অনলাইন ডেটাবেজ ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’ (ডাব্লিউপিআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ নিয়মিত রোজা রাখেন এবং দিনশেষে ইফতার করেন।

মুসলিম দেশগুলো নিয়ে আলোচনা করলে সৌদি আরব থাকে তালিকার প্রথম দিকেই। ডাব্লিউপিআর-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে মোট সোয়া তিন কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ। তাহলে এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম ইফতারে কী খায়?

আরব নিউজের এক প্রতিবেদন বলছে, সৌদিরা ইফতারের শুরুতে ‘গাহওয়া’ নামের অ্যারাবিক কফি পান করেন এবং খেজুর খান। এরপর তারা মাগরিবের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে খান ভারী খাবার।

তবে সৌদিতে অঞ্চলভেদে ইফতারের খাবারে ভিন্নতা রয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ তাদের ইফতারে শৌরাইক রুটি ও দুজ্ঞাহ নামের ঐতিহ্যবাহী খাবার খান। আবার পূর্বাঞ্চলের মানুষ ইফতারে সালুনা নামের একটি খাবার খান, যা মাংস ও সবজির স্টু দিয়ে তৈরি হয়।

অপরদিকে সৌদির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মানুষ তাদের রোজা ভাঙেন আসিদাহ, মারগগ, মাফরৌক ও মাতাজিজ নামের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে। এগুলো বাদামি আটা, গরুর মাংস, সবজি, মধু, পিঁয়াজ বা ঘি দিয়ে তৈরি হয়। দেশটির আরেকটি জনপ্রিয় খাবার থারিদ, যা মূলত ভেড়ার মাংস ও সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ জাতীয় খাবার। এছাড়াও তাদের খাবারে আরও বিভিন্ন পদ স্থান পেয়ে থাকে।

সূত্র: বিবিসি