রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাংশা-মৃগী সড়কের মৌরাট ইউনিয়নের কাজিয়াল নদীর ওপর মালঞ্চি জেলে পাড়া বড় ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে। এতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাংশা উপজেলার পাংশা-মৃগী সড়কটি পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ড হতে দক্ষিণে রাস্তাটি বালিয়াকান্দি পর্যন্ত চলে গেছে। এই সড়ক দিয়ে পাংশা উপজেলার মৃগী, সাওরাল, মৌরাট, পাট্টা, কসবামাজাইল ও সরিষা ইউনিয়নসহ বালিয়াকান্দি-পাংশা উপজেলার মানুষ যাতায়াত করে। সেতু দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, ইজিবাইক, নছিমন, মোটরবাইক, বাইসাইকেল, ভ্যানসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে।
পাংশা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলা-মৃগী সড়কের পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মালঞ্চিগ্রামের কাজিয়াল নদীর ওপর জেলেপাড়া বড়ব্রিজ নামে একটি সেতু ছিল। পুরাতন সেতু ভেঙে সেখানে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সেতুর আয়তন দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার ও প্রস্ত ৯.৮ মিটার। চুয়াডাঙ্গার মেসার্স জাকারিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। কাজের চুক্তিমূল্য চার কোটি ৬০ লাখ ১৩ হাজার ২৯৮ টাকা। নির্মাণ কাজ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শফিকুল মোরশেদ এবং পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরোয়ার। ইতিমধ্যে কাজের ৬০ শতাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রায় ছয়মাস ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পূর্ব দিক দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশে একটি বড় খাল। খাল ঘেঁষে ধানের মাঠ। সংযোগ সড়কের দুই পাড় বেশ খাড়া। সেতুর উত্তর পাশে ‘সেতুর কাজ চলিতেছে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করুন’ লেখা একটি সাইনবোর্ড বসানো রয়েছে। সেতুর দক্ষিণ পাশে কাজের বিবরণ দেওয়া আরেকটি সাইনর্বোড রয়েছে। সেতুর দুই পাশেই বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকানো। সেতুর সংযোগ সড়ক দিয়ে ইজিবাইক, ভ্যান, নছিমন, করিমন, ট্রাক, মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। ইজিবাইকের যাত্রীরা সংযোগ সড়কের মাঝে নেমে রাস্তায় উঠছেন।
খেঁজুর গাছের গুঁড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানচালক শরীফ শেখ বলেন, ‘আমি দশ মিনিট এখানে দাঁড়িয়ে আছি। এই ভ্যান আমার একার পক্ষে নামানো সম্ভব নয়। যখন এখান দিয়ে কোনও মানুষ যাবে। তাদের বলে আমার ভ্যানটি এই রাস্তা পার করতে হবে। প্রতিদিনই আমাদের এইরকম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’
মৌরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এখানে আগে একটি সেতু ছিল। সেটা ভেঙে একই মাপে নতুন করে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এখান দিয়ে আগে বর্ষার পানি আসত। তবে গত কয়েক বছর ধরে সে পানি আর আসে না। এখানে এতবড় সেতু না করলেও হতো। এখন সেতুর কাজ অনেকদিন বন্ধ রয়েছে। সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় এই রাস্তায় যানবাহন চলাচলে খুবই ভোগান্তি হচ্ছে। আমি বার বার ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে ভোগান্তির কথা জানিয়েছি। কিন্তু তারপরও এই সেতুর কাজ শেষ করা হচ্ছে না।
মৌরাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ইউপি সদস্য মো. আজিমউদ্দিন বলেন, এই সড়কটি পাংশা উপজেলার মধ্যে খুবই ব্যস্ততম সড়ক। মালঞ্চি সেতুটি আমার ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর এলাকা। এখান থেকে বাগদুলি হাট আধা কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সেতু না থাকাতে দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ঘুরে একটি মেঠো রাস্তা দিয়ে কৃষকদের ফসল বিক্রির জন্য হাটে যেতে হয়। এতে তারা অনেক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবুল কাশেম সরোয়ার বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। আর কিছু কিছু কাজ ধীরে ধীরে করতে হয়। আমরা সাটারিংয়ের জন্য যশোরের মালামালের অর্ডার দিয়েছি। আশা করছি, এই মাসের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারব।
তিনি বলেন, এই কাজ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শফিকুল মোরশেদ আরুজের সঙ্গে যৌথভাবে করা হচ্ছে। কাজের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়ে ছিল। আমরা জুন মাস পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার মেয়াদ বাড়িয়েছি।
এলজিইডির পাংশা উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।