তুচ্ছ ঘটনায় কলেজ শিক্ষককে শাসালেন ছাত্রলীগ নেতা

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে শাসিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদিকে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলে ওই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে কলেজে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

ওই শিক্ষকের নাম সৈয়দ নিয়ামুল হক। তিনি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের দুই সাধারণ ছাত্রের অনুপস্থিতির কারণে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। আজ দুই ছাত্রের জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। একই বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নিজামুল দুই সহপাঠীকে নিয়ে নিয়ামুল হকের কাছে যান। সেখানে তার সঙ্গে নিজামুলের তর্কাতর্কি হয়। বিষয়টি নিজামুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তন্ময়কে জানান। জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী শিক্ষকের কাছে যান। ছাত্রদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলে শিক্ষককে তারা শাসান।

এ বিষয়ে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ নিয়ামুল হক বলেন, ‘আমি আমার বিভাগে পরীক্ষার খাতা দেখছিলাম। এ সময় হঠাৎ তারা কক্ষে প্রবেশ করে। আমি তাদের কথা শুনি। আমি জরিমানা মওকুফে অস্বীকৃতি জানালে তারা উত্তেজিত হয় এবং আমাকে লাঞ্চিত করে।’

জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তন্ময় বলেন, ‘একজন ছাত্রের জরিমানা মওকুফের জন্য নেতাকর্মীরা গেলে স্যার তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। পরে আমি গেলে আমার সাথেও খারাপ আচরণ করেন নিয়ামুল স্যার। আমাকে লাঞ্চিত করেন। আমরা এর বিচার চাই। না হলে আন্দোলন আরও বাড়বে।’

জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাবীরুল ইসলাম খান বাবু বলেন, ‘এ ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কলেজে চলে আসছি। ঘটনার বিস্তরিত শুনে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

এ প্রসঙ্গে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোনো অভিযোগ থাকলে আমার কাছে এসে বলতে পারত। এভাবে ওই বিভাগে গিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তর্কে জড়ানো ঠিক হয়নি। শুধু তাই নয়-সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা (ছাত্রলীগ নেতা) কলেজের ছুটির ঘণ্টাও বাজিয়েছে। সকল শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে বসেছি। বিষয়টি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে।’