হাসপাতালের চত্বরেই গাঁজা গাছের বাগান

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর হাসপাতাল চত্বরেই মিলেছে গাঁজা গাছের বাগান। হাসপাতালের চত্বরের পাশে স্টাফ কোয়ার্টারের পথের দুই ধারে ও হাসপাতাল থেকে মসজিদে যেতে পথের ধারে অসংখ্য গাঁজা গাছ সাদৃশ্য গাছ দেখা যায়। এসব গাছ থেকে গন্ধও ছড়াচ্ছে। এছাড়াও, সার্জারি বিভাগের উত্তর পার্শ্বের বদ্ধ জায়গাও ছোট-বড় অসংখ্য গাঁজা সাদৃশ্য গাছ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের যেখানে-সেখানে মেডিকেল বর্জ্য ও হাসপাতাল বর্জ্যের স্তূপ হয়ে রয়েছে। হাসপাতালের উত্তর দিকে স্টাফ কোয়ার্টারের পথের দুই ধারে ও হাসপাতাল থেকে মসজিদে যেতে পথের ধারে অসংখ্য গাঁজা সাদৃশ্য গাছ রয়েছে। কোনও কোনও গাছ কয়েক ফুট লম্বাও হয়েছে, যেগুলো থেকে গন্ধও ছড়াচ্ছে।

এর আগে ‘হাসপাতাল নয় যেন গাঁজার বাগান’ ক্যাপশনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতালটির ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর উৎসুক অনেকেই সেই বাগানে ভিড় করেন। এরপর মঙ্গলবার সিভিল সার্জন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম গাঁজা গাছ সাদৃশ্য বাগান পরিদর্শন করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইমরোজ নামের এক ব্যক্তি জানান, এখানে ভাং গাছ রয়েছে, তার মাঝে গাঁজার গাছও থাকতে পারে। তবে দুটি গাছই নেশাজাতীয় দ্রব্য। গাঁজায় নেশা বেশি হয়, ভাং গাছে নেশা একটু কম হয়ে থাকে। কেউ হয়তো গাঁজা সেবন করে এখানে বীজ ফেলে রেখেছে, সেখান থেকেই গাছগুলো হয়েছে।

সদর হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে এই গাছগুলো বেড়ে উঠেছে। আগে আরও বেশি ছিল। প্রতিবছরই এই গাছ গুলো কেটে পরিষ্কার করেছেন তারা। তবে গাছ কাটার পরও আবার হয়েছে। দীর্ঘদিন এভাবেই সকলের সামনেই বেড়ে উঠেছে গাছ গুলো। কিছু ছেলেপুলে এগুলো ছিঁড়ে নিয়ে রস করে খায় বলে তাদের জানিয়েছে।

তবে গাছগুলোর আকৃতি-প্রকৃতি দেখে ভাং ও গাঁজা গাছে বিভক্ত করে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক দীপংকর দাস জানান, গাছগুলো দেখে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তবে প্রাথমিক দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, এখানে গাঁজা ও ভাং গাছ রয়েছে। গাছগুলো একই প্রজাতির। এগুলোর মধ্যে স্ত্রী গাছকে বলা হয় গাঁজা এবং পুরুষ গাছগুলোকে বলা হয় ভাং। তিনি আরও বলেন, এগুলো দেখে লাগানো মনে হয়নি, হয়তো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠেছে।

এদিকে সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. গণেশ কুমার আগারওয়াল জানান, বিষয়টি জানার পর পরই আমি নিজে জায়গাগুলো পরিদর্শন করেছি এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছি। মঙ্গলবার জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গাছগুলোর নমুনা নিয়ে গেছে, পরীক্ষা শেষে তারাই বলতে পারবে এগুলো কিসের গাছ। এর বাইরে চিকিৎসক হিসেবে গাছের বিষয়ে আর কিছু বলতে চাননি তিনি।

খবর পেয়ে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম গাঁজা সাদৃশ্য গাছের জায়গাগুলো পরিদর্শন করেছেন। এরপর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামীম হোসেন বলেন, গাছের সাথে এর কোন মিল না থাকলেও ঢোগা এবং পাতায় কিছু মিল রয়েছে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবেনা। গাছের নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এগুলো আসলে গাঁজা না ভাং গাছ অথবা অন্য কিছু।

বিষয়টি নিয়ে এর মধ্যেই ফরিদপুরে চাউর হয়ে ঘুরছে গাঁজা গাছের চাষ হচ্ছে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে। তবে এটা মানতে নারাজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে, ফরিদপুর জেলাবাসী অপেক্ষায় রয়েছে গাছগুলো কি, সেই বিষয়টির আসল রহস্য জানার জন্য।