বাস সংকট, বাজেট সংকট, নিয়ন্ত্রণে উদাসীনতা, অব্যবস্থাপনা, যত্নে অবহেলা ও প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে আগামী বছরই বাসশূন্য হতে পারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর নানা সময়ে বাস, এসি কোস্টার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুল্যান্সসহ প্রায় ২০টিরও বেশি গাড়ি পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী বাস নিয়মিত চলে মাত্র ৬টি। তবে নানা কারণে শিক্ষকদের বাস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস, অ্যাম্বুল্যান্স, উপাচার্যের গাড়ি, প্রক্টরিয়াল বডির গাড়ি কিংবা অন্যান্য কর্মকর্তাদের গাড়ি ব্যতিত শিক্ষার্থীদের বাসগুলো অযত্ন-অবহেলায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে বাসগুলো রয়েছে তা যথাযথ পরিচর্যা না করলে আগামী বছরের মধ্যেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বাসের যে অবস্থা তাতে একবছরের মধ্যেই এসব বাস অকেজো হয়ে যাবে। দেখা যাবে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রংশ খুলে যাচ্ছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর নানা সময়ে এসব বাস যুক্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৪৫০ টাকা ব্যয়ে ৫২ সিট বিশিষ্ট দুটি বাস কেনা হয়। সেখানে ওয়াইফাই ও টেলিভিশন যুক্ত থাকার কথা থাকলেও এ ধরনের কোনো সুবিধা সেসব বাসে নেই। ২০২০ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হয় আরো একটি বাস। এরপর বিভিন্ন সময়ে ৯টি বাস চালু হলেও বর্তমানে নিয়মিত বাস চলে মাত্র ৬টি। বাকি তিনটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকলে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি বাস চালু করে সেটিকে রিজার্ভে রেখে দেওয়া হয়। বাকি বাস দুটিকে গ্যারেজের বাইরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বের পরিত্যক্ত বাসগুলো থেকে ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সসহ নানা যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বছরের পর বছর পড়ে থাকা বাস দুটির কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী সাজেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন বাসগুলো গ্যারেজে না রেখে খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে এটাই প্রশ্ন। মেরামতের কথা বললেও কোনো কাজ করছে না কর্তৃপক্ষ।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়েকটি বাসের যে অবস্থা তা দেখে উঠতেই ইচ্ছে করে না। ফ্যান নষ্ট, ওয়াইফাই ব্যবস্থা নেই, বৃষ্টির দিনে ছাদ থেকে পানি পড়ে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে একেকজন একেক ধরনের মন্তব্য করেন। তাতে করে নতুন বাস কিংবা মেরামতাধীন বাস নিয়েও বাড়ছে ধোঁয়াশা। এতে প্রকট হচ্ছে বাস শূন্যতা প্রবণতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন বাস নেওয়া হবে কিনা এ প্রসঙ্গে পরিবহন পুলের সহকারী পরিচালক তাপস কুমার বলেন, আমরা বাসের জন্য উপাচার্য বরাবর প্রস্তাব দিয়েছি। উপাচার্য তা গ্রহণও করেছেন। আশা করি দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে। বাস সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থের যোগান খুব সামান্য। সামান্য অর্থ নিয়ে বাসের সংস্কার সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট শাখার উপ পরিচালক খন্দকার আশরাফুল নতুন বাস কেনার বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাসের জন্য বর্তমানে কোনো বাজেট নেই। গতবছর থেকে এই বাজেট বন্ধ রয়েছে। নতুন বাস কেনা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাসগুলো ১২-১৩ বছর চলায় এদের বয়স হয়ে গেছে। সব বাসের তো একটা মেয়াদ আছে। এখন বাসের বয়স হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে আমরা সার্ভিসিংও করছি, কিন্তু নতুন বাস না ঢুকলে তো বাস চলা মুশকিল।
তিনি আরো বলেন, নতুন ২টি বাসের চাহিদা আমরা দিয়েছি। এখন এটা দেবে কিনা সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে নতুন বাস আমাদের প্রয়োজন।