দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
এছাড়া লালমনিরহাটে পাঁচ সাংবাদিককে হয়রানির ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বুধবার সিপিজের ওয়েবসাইটে এই আহ্বান জানায় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বৈশ্বিক সংগঠনটি।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে সাংবাদিক শফিউজ্জামানকে প্রতিহিংসামূলকভাবে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সরকারি তদন্তকে স্বাগত জানান সিপিজের এশিয়া প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই। তিনি বলেন, ‘শুধু তথ্য চাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিহিংসার শিকার হওয়া উচিত নয়।‘
এছাড়া লালমনিরহাটে সরকারি কার্যালয়ে পাঁচ সাংবাদিককে আটকে রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের একটি স্বচ্ছ তদন্ত শুরু করা উচিত বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা যাতে দায়মুক্তিসহ হয়রানির শিকার না হন, তা কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত করা উচিত।
শফিউজ্জামান দেশ রূপান্তর পত্রিকার শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা। একটি সরকারি প্রকল্পের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ৫ মার্চ একপর্যায়ে সরকারি কার্যালয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে এক সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন শফিউজ্জামান। ১২ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁর আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল তারিখ ধার্য রয়েছে।
অন্যদিকে গত ১৪ মার্চ তথ্য সংগ্রহ করতে লালমনিরহাট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মাহফুজ সাজু। সেখানে ভূমিসংক্রান্ত বিষয়ে শুনানির ভিডিও ধারণ করার পর কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাঁকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের চার সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিককে মুক্ত করেন। অপর চার সাংবাদিক হলেন মাজহারুল ইসলাম বিপু, এস কে সাহেদ, নিয়ন দুলাল, লিয়াকত আলী।
এদিকে সিপিজের আহ্বানের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত জানিয়েছিলেন যে, তথ্য কমিশন ঘটনাটি তদন্ত করবে। প্রতিমন্ত্রী সিপিজেকে বলেছিলেন, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি তিনি ১৮ মার্চ পাবেন।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিপিজের পরবর্তী অনুরোধে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। এছাড়া লালমনিরহাটের ঘটনায় মন্তব্যের জন্যও সিপিজের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।