বিদেশে পড়তে নিজেকেই অপহরণ তরুণীর, মুক্তিপণ চাইলেন ৩০ লাখ

২১ বছর বয়সী মেয়ের হাত-পা বাঁধা ছবি পান বাবা। সঙ্গে মুক্তিপণের দাবি। উপায় না দেখে পুলিশের দারস্থ হন বাবা। কিন্তু পুলিশ তদন্ত শুরু করলে প্রকাশ্যে আসে অন্য কাহিনি। পুলিশের দাবি, মেয়েটি নিজেই নিজেকে অপহরণের নাটক সাজান। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার সময় ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি তার মেয়ের হাত-পা বাঁধা ছবি পেয়েছেন। তার মেয়ে রাজস্থানের কোটায় একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ চেয়েছে ৩০ লাখ রুপি। কোটা পুলিশ পরে জানায়, তার মেয়েকে কেউ অপহরণ করেনি। তরুণী তার অপহরণের মিথ্যা ঘটনা সাজিয়েছিলেন।

কোটার পুলিশ সুপার অমৃতা দুহান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, তরুণীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ হয়নি। কোনো অপহরণের ঘটনাও ঘটেনি। এখন পর্যন্ত অপহরণের ঘটনাটি মিথ্যা মনে হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ১৮ মার্চ মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে মেয়েকে ফিরে পেতে বাবার অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানতে পারেন তারা। তদন্তে নেমে জানা যায়, ওই তরুণী তার দুই বন্ধুর সঙ্গে ইন্দোরে বাস করতেন। পুলিশ এক বন্ধুকে খুঁজে বের করে। সেই বন্ধু জানায়, ওই তরুণী এবং তার অন্য বন্ধু বিদেশে যেতে চান। বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য তার অর্থ প্রয়োজন ছিল। 

এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই তরণীর অবস্থান জানা যায়নি। তিনি শহরের কোনো কোচিং বা হোস্টেলে ভর্তি হননি। কিন্তু মেয়েটির মা গত আগস্টে তাকে একটি কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায় এবং তিনি ৫ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। এরপর ওই তরুণী ইন্দোরে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।