আল্লাহর সন্তুষ্টি যে পথে

হিজরি বর্ষের নবম মাস রমজান। পবিত্র রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম। রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জন করা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সর্বপ্রকার নাফরমানি কাজ থেকে দূরে থাকার নামই তাকওয়া। রোজা এমন একটি ইবাদত, যা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই পালন করা হয়। পবিত্র এ মাসে আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও ক্ষমা লাভের অপূর্ব সুযোগ হয়। এজন্যই হাদিসে কুদসিতে এসেছে, হজরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য। কিন্তু রোজা শুধুই আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব।’ (সহিহ বোখারি ১৯০৪)

রোজা বান্দার মধ্যে আল্লাহর ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহর কাছে বান্দার মান-মর্যাদা নির্ধারণের একমাত্র উপায় হলো তাকওয়া। এটিই মানুষের মনে সৎ ও মানবিক গুণাবলি সৃষ্টি করে। তাছাড়া হারাম বর্জন করে যথার্থভাবে রোজা ও অন্যান্য ইবাদত করতে পারলেই রমজান সার্থক হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

রোজা দ্বারা মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টির পাশাপাশি গুনাহের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। রমজান মাসের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও আত্ম-অহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাসই হলো রমজান মাস। সিয়াম সাধনার কারণে একজন রোজাদার বহুমুখী সুফল লাভ করতে পারে। সে তখন ইবাদতটির বহুবিধ উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়। সে তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে যে, রোজা তথা রমজান মাস শুধু উপবাসের নামে একটি ইবাদতকে সঙ্গে নিয়ে আসেনি, বরং অসংখ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এ মাসটির আগমন ঘটেছে। যার ইবাদতগুলো দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা ধারাবাহিকভাবে সাজানো। সিয়াম সাধনায় মানুষ মানবীয় গুণাবলির অধিকারী হয়। এমন মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্ট সহজেই অনুভব করতে সক্ষম হয়। এ মাস মহান আল্লাহন শাশ্বত জীবন বিধান কোরআন নাজিলের মাস। কোরআনের ভাষায়, ‘রমজান মাস, এতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্য এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-অসত্যের পার্থক্যকারীরূপে।’ পবিত্র রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য অপরিসীম। রমজানের মানবিক শিক্ষাকে যদি আমরা সমাজ সংশোধনে কাজে লাগাতে পারি, তবেই রমজান মাসের সিয়াম সাধনা আমাদের জীবনে সার্থক হবে। তাই আসুন সময় নষ্ট না করে রমজান মাসে অধিক ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাই। পাশাপাশি সৎ ও ন্যায়ের পথে থেকে যেন বাকি জীবন চলতে পারি, সেজন্য সাহায্য চাই। পবিত্র মাসকে উপলক্ষ করে আল্লাহতায়ালা বিশ্বব্যাপী মুসলমান ভাই-বোনদের ইবাদত-বন্দেগি কবুল করুন। তাদের ক্ষমা করে দিন। আমিন।