ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা। সেই খবর ছড়িয়ে পড়লে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন তার ভক্ত অনুরাগীরা।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার লিখেছে, “পরীক্ষার পর সব্যসাচীর হার্টে ব্লকেজ পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর পরামর্শ দেন। সেই মত বুধবার সন্ধ্যায় অভিনেতার অস্ত্রোপচার হয়। আপাতত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকেরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।”
সম্প্রতি ছেলে গৌরব ও পুত্রবধূ ঋদ্ধিমা ঘোষের সন্তান ধীরের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সব্যসাচী। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সবকিছুর তদারক করেছেন। নাতির সঙ্গে সময় কাটাতে বেশ পছন্দ করেন সব্যসাচী। অন্নপ্রাশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর এ অভিনেতার অসুস্থতার খবর এল।
মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র– সব মাধ্যমেই দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান ‘ফেলুদা’র চরিত্রে অভিনয় করে। বলা হয়, সত্যজিত রায়ের অমর চরিত্র ‘ফেলুদা’কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
বাংলা, হিন্দি, তামিল মিলিয়ে তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা একশর কাছাকাছি; ওই সংখ্যার হিসাবকে থামিয়ে দিয়ে গতবছর অবসরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন এই অভিনেতা। ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে এসে এক সাক্ষাৎকারে সব্যসাচী গ্লিটজকে বলেছিলেন, “আমার সময় শেষ। এখন রিটায়ার্ড। এখন অবসরপ্রাপ্ত।”
অবশ্য পরে সব্যসাচী বলেন, অভিনয় থেকে বিদায় নয়, আপাতত ‘বিরতিতে’ আছেন।