৭ দিনের রিমান্ডে অরবিন্দ কেজরিওয়াল

আবগারি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজতে থাকবেন তিনি। এর আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাতে গ্রেপ্তার হন কেজরিওয়াল। তার রাতটা কাটে ইডি দপ্তরে। নিয়ম মোতাবেক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আদালতে হাজির করানো হয়। শুক্রবার বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক কাবেরী বাওয়েজার এজলাসে কেজরিওয়ালের মামলার শুনানি ছিল। ইডির পক্ষে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে শুনানি করেন। তিনি দাবি করেন, আবগারি দুর্নীতির প্রধান হোতা কেজরিওয়াল।

ইডি আদালতে জানায়, অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের নির্দিষ্ট ধারা মেনেই গ্রেপ্তার হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তার জামিনের বিরোধিতা করে ইডি বলে, অপরাধে সরাসরি যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। কিছু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার জন্যই নতুন আবগারি নীতি প্রণয়ন করা হয়। আবগারি ‘দুর্নীতি’র টাকা গোয়া এবং পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচনে কাজে লাগিয়েছিল আম আদমি পার্টি।

কেজরিওয়ালের পক্ষে শুক্রবার শুনানি করে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। ইডির গ্রেপ্তারির বিরোধিতা করে তিনি বলেন,  ইডি একটা নতুন পন্থা নিয়েছে। আপনার কাছে একজন সাক্ষী আছে, যিনি প্রথম বা দ্বিতীয় বয়ানে কেজরিওয়ালের নাম নেননি। আপনি তাকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তার জামিনেরও বিরোধিতা করেন। শেষে দেখা যায় তিনি আপনাদের কথা মেনে নেন। তারপর যে বয়ান দেন তাতে কেজরিওয়ালের নাম ছিল।

সিংভি আরও জানান, বিশ্বাসযোগ্য কারণ ছাড়া কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায় না। কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাতে পারেনি ইডি।

আবগারি দুর্নীতির মামলায় কেজরিওয়ালকে ৯ বার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু আটবার হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। শেষ পাঠানো সমনে বৃহস্পতিবারই ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কেজরিওয়াল। হাইকোর্ট তা খারিজ করলে সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে কেজরিওয়ালের মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু শুনানির আগেই তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।