ভারতের আনুগত্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনাসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
মেজর হাফিজ বলেন, আজকে একটি রাষ্ট্রের প্রতি নতজানু যে পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতি বিষয়ে বাইরের দিকে তাঁকিয়ে থাকা এটা বর্তমান শাসক দলের অভ্যাস। তাদের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) যখন বিপদে পড়ে তখন বলেন, দিল্লি আছে আমরা আছি। এই ধরনের কথা বলতে লজ্জ্বাবোধও তাদের হয় না। দিল্লি থাকলে এই সরকার আছে। কত খানি নির্লজ্জ প্রতিবেশি দেশের আশ্রয়ে আনুগত্য স্বীকার করে যাচ্ছে। আমরা কি এজন্য যুদ্ধ করেছি? রাওয়ালপিন্ডি থেকে সরে এসে আমরা কি দিল্লির অধীনস্থ হওয়ার জন্যই যুদ্ধ করেছি? কখনই না। বাংলাদেশের স্বাধীন চেতা মানুষ কখনোই এই ধরনের গোলামি মেনে নেবে না।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে হাফিজ বলেন, বিএনপি পথ নির্দেশ করছেন তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। স্বাধীনতার মূল্যবোধকে উজ্জীবিত করার জন্য, স্বাধীনতার লক্ষ্যসমূহকে বাস্তবায়ন করার জন্য বিএনপি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিএনপির সংগ্রাম জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাবার সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে সংগ্রাম।
দেশের বর্তমান অবস্থায় দেখে ৮০ বছর বয়েসী অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, দুঃখ লাগে ৮০ বছর বয়সে গাড়ি পোড়ানো মামলায় এই স্বাধীনতার মাসে জেলে যেতে হলো। আশা করি এজন্য ক্ষমতাসীনরা একদিন লজ্জিত হবে। অপরাধ করলে নিশ্চয়ই সাজা হবে। কিন্তু আমি এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরী (বিমান বাহিনী প্রধান) জনতা ব্যাংকের গাড়ি পোঁড়াতে গিয়েছিলাম। সেদিন তো কোনো ঘটনাই ঘটেনি ঢাকা শহরে।
মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান রাজনৈতিক দল তারা জনগণের ভোট পেয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে দোষের কিছু নাই। ২৪ বছর অনেক অন্যায়-অবিচার-বঞ্চনার শিকার আমরা হয়েছি। শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ন্যায্য দাবিদার ছিলেন। সেটাই তিনি চেষ্টা করেছেন, দোষের কিছুই নাই।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সাহাবুদ্দিন রেজার সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তথ্য ও গবেষণা বিষক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল হালিম মিঞা, সৈয়দ সরোয়ার আলম, অ্যাডভোকেট আবদুস সামাদ, ফরিদ উদ্দিন, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শাহ নেছারুল হক, কাজী মনিরুজ্জামান মুনির, নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।