একাদশে ৫ জনের অভিষেক। সেই সঙ্গে কোচেরও। একরাশ ব্যর্থতায় ঠাসা সময়গুলো পেছনে ফেলার আয়োজন। সামনেই কোপার পরীক্ষা। ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র গোলশূন্য থাকা ম্যাচের ৭১ মিনিটে মাঠে নামালেন তার তুরুপের এক্কা। তাতেই বাজিমাত। ৭ মিনিট পর ১৭ বছরের বিস্ময় বালক এনদ্রিকের গোলেই ওয়েম্বলিতে ইংরেজি পরীক্ষায় লেটার মার্কে পাশ দরিভাল। সেই সঙ্গে তার নতুন ব্রাজিলের।
বিশ্বকাপে হেরে বাদ পড়ার পর ১১ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা ইংল্যান্ড হার মানলো যোগ্য প্রতিপক্ষ, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে। ওয়েম্বলিতে ২০২০ সালের পর প্রথম হারল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সের কাছে ৩ ম্যাচ হারের পর অবশেষে এলো জয়ের স্বস্তি। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এনদ্রিকের একমাত্র গোলেই নিষ্পত্তি হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রীতি নামের এই মর্যাদার লড়াইয়ের। ছয় মাস পর জয় পেল সেলেসাওরা।
সেলেসাওদের গোলবার সামলানোর দায়িত্ব পেয়ে বেন্তো প্রথম পরীক্ষা দেন ফিল ফোডেনের ফ্রিকিক সামলে। পাল্টা জবাবে রদ্রিগোর শট সামলাতে হয় ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এক দফায় পিকফোর্ডকে পরাস্ত করলেও ইংলিশদের ত্রাতা হন অধিনায়ক কাইল ওয়াকার। দৌড়ে এসে গোলমুখ থেকে ভিনিসিয়ুসের ঠেলে দেওয়া বল ঠেকান তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেকে ওলি ওয়াটকিন্স পেতে পারতেন প্রথম গোলের দেখা। যদি না ব্রাজিলের ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো সময়মতো এসে তার সামনে বাধা হয়ে না দাঁড়াতেন। হ্যারি ম্যাগুয়ের ও অভিষিক্ত অ্যান্থনি গর্ডনের নেওয়া শট দুটো ফিরে আসায় দাপট দেখানো ইংল্যান্ডকে প্রথমার্ধে থাকতে হয় গোলবঞ্চিত।
দ্বিতীয়ার্ধে লুকাস পাকেতার শট গোলবারে না ঠেকলে এগিয়ে যেতে পারতো ব্রাজিল। ৭১ মিনিটে রদ্রিগোর জায়গায় মাঠে নামানো হয় এনদ্রিককে। আর ম্যাচের ৮০ মিনিটে আন্দ্রিয়াসের বাড়িয়ে দেওয়া বলে শট নেন ভিনিসিয়ুস। এ যাত্রায়ও তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান পিকফোর্ড। তবে ফিরতি বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি এনদ্রিক।
সেলেসাও জার্সিতে অভিষেক রঙিন করে নেন এনদ্রিক ওই গোলেই। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে আরও একবার গোলের সুযোগ পেলেও পিকফোর্ড পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সেই শট।
তাতে নাখোশ হওয়ার সুযোগ নেই দরিভালের। ৬-৭ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিজের অভিষেকের ম্যাচে গোলের সংখ্যার চেয়ে জয়ই সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ্য নিশ্চয়।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট বলেন, ‘এটা একটি সেরা ম্যাচ ছিল। দারুণ কিছু নৈপুণ্য দেখা গেছে ম্যাচে। আমরা পুরো ম্যাচে অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করলেও শেষ সময়ের গোলে ফল আমাদের পক্ষে আসেনি। আমাদের কয়েকজন ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। বিশেষ করে অ্যান্থনি দুর্দান্ত ছিল দুই অর্ধেই। ওয়াকারের অস্বস্তি রয়েছে। ও সাধারণত ইনজুরিতে পড়ে না। পরবর্তীতে মূল্যায়ন শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। আমি আমাদের পারফরম্যান্সে মোটেও অখুশি নই।’