পেলে রোমারিও নন, 'এনদ্রিক' হতে চান তিনি

ওয়েম্বলির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি গড়ে ব্রাজিলকে জয় এনে দিয়েছেন ১৭ বছরের বিস্ময়-বালক এনদ্রিক। ব্রাজিল জার্সিতে তৃতীয় ম্যাচে প্রথম গোল করার পর আবেগাপ্লুত হওয়াটাই স্বাভাবিত। ম্যাচশেষে আবেগের স্রোতে ভেসেছেন তিনি। 

নিজের অনুভুতি প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আমার পরিবার এখানে আছে, প্রেমিকা আছে, এজেন্ট আছে। আমি সহজে চোখের জল ফেলার মানুষ নই। নিজেকে সামলে রাখার প্রচণ্ড চেষ্টা করেছি। তবে আজ যা হয়েছে তা অদ্ভুত, অনন্য। আমি সত্যিকার অর্থে খুব খুব খুশি।’ 

এদিন আরও একটি গোল পেতে পারতেন এনদ্রিক। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে গোলের সুযোগ পেলেও পিকফোর্ড পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন সেই শট। গোলটা করতে না পারার কারণ জানিয়েছেন এনদ্রিক, ‘মিথ্যা বলবো না, প্রথম গোলের উত্তেজনা আমাকে পেয়ে বসেছিল। আমি শুধু স্কোর করার কথাই চিন্তা করছিলাম সে সময়।’

সবমিলিয়ে তিন ম্যাচ খেলেই ব্রাজিল ভক্তদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এনদ্রিক। নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে খেলেছিলেন মাত্র ৮ মিনিট। ৫ দিন পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও নেমে ১৮ মিনিট খেলেন তিনি। শনিবার এক মিনিট বেশি খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তার তাতেই ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে তার রসায়ন ফুটে উঠেছে দারুণ ভাবে। 

নিজের গোল সম্পর্কে এনদ্রিক টেনে এনেছেন কিংবদন্তি স্যার ববি চার্লটনকে। বলেছেন, ‘স্যার ববি চার্লটন যেখানে খেলেছেন, গোল করেছেন, সেই একই জায়গায় খেলতে পারা, গোল করতে পারা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’

ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ দরিভাল এনদ্রিককেও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত সে যে মনোভাব দেখিয়েছে, ব্রাজিল ও বিশ্ব ফুটবলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এক নাম হতে পারে।’

সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার জো কোল এনদ্রিকের মাঝে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিওকে দেখার কথা জানিয়েছেন, ‘আমার ধারণা, তার মধ্যে রোমারিওর কিছুটা ছায়া আছে। শরীরের গঠন এবং যেভাবে বল সামনে বাড়িয়ে দেয়, তা দেখলেই বোঝা যায়। এ ছাড়া তার মুখে যে উচ্ছ্বাস, সেটাও একই কথা বলে। ওয়েম্বলিতে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করেছে, অসাধারণ ব্যাপার!’

ব্রাজিলের হয়ে তিন ম্যাচে মাত্র ৪৫ মিনিট খেললেন এনদ্রিক

আসছে মৌসুমে অর্থাৎ জুলাইতে বয়স ১৮ পূর্ণ হলেই গায়ে তুলবেন রিয়াল মাদ্রিদ জার্সি। তার আগেই পেলের সঙ্গে তুলনা চলছে এনদ্রিকের। তবে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি পেলের পা ছোঁয়ার যোগ্যও কেউ হতে পারবে না কখনো। তিনিই ফুটবলের রাজা।’ অন্য কারো মতো হতে চান না এনদ্রিক, নেই জার্সি নাম্বারের প্রতিও আকাঙ্খা। বলেছিলেন, ‘আমি শুধু এনদ্রিক হতে চাই। এনদ্রিক কে, সেটিই আমি তাদের দেখাতে চাই।’

১৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক এনদ্রিকের। তখন থেকেই তিনি দেখিয়ে যাচ্ছেন বল পায়ে কতটা জমাট, ক্ষিপ্র ও চতুর। পেশাদার ফুটবলে দুই মৌসুম খেলেই পালমেইরার্সের হয়ে দুবার ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ জিতেছেন। শুধু লিগই নয়, ব্রাজিলিয়ান সুপার কাপ ও সাও পাওলো রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপও জেতা হয়ে গেছে এনদ্রিকের। 

রিয়াল মাদ্রিদ ২০২২ সালেই এনদ্রিককে দলে টানার কাজ সম্পন্ন করে রেখেছে। সাড়ে ৬ কোটি মার্কিন ডলারে চুক্তিটা সেরেছে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় নাম রিয়াল। তাতে ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বকাপ আশার পালে একটু হলেও হাওয়া লেগেছে। সেই ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতা দলটির সমর্থকেরা ভাবছেন এনদ্রিক ফেরাবেন ব্রাজিল ফুটবলের গৌরবের দিন।