কোনদিন কোচিং না করিয়েও দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষমতা আকড়ে আছেন আলোচিত সত্যজিৎ দাস রুপু। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রবিবার সংগঠনটির নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এই নির্বাহী সদস্য। তার বিরুদ্ধে ওঠা অনেক অভিযোগ সত্যেও প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই ভোটের লড়াইয়ে রুপু হারিয়েছেন শেষ মুহূর্তে প্রতিবাদ জানাতে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়া বসুন্ধরা কিংসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বিএ যোবায়ের নিপু। সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাবে হওয়া নির্বাচন অবশ্য অন্য কারণে কলঙ্কিত হয়েছে রবিবার। নির্বাচনী উত্তাপ ছাপিয়ে গেছে বঞ্চিত কোচদের প্রতিবাদ-আন্দোলনে।
ফিফা-এএফসির নির্দেশনা মেনে ২০০৮ সালে আবির্ভাব ঘটেছিল ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশনের। মূলত এই সংগঠন কোচদের দাবী-দাওয়া আদায়ে কাজ করে। অথচ জন্মলগ্ন থেকে এটা একটা পকেট সংগঠন হয়ে রয়েছে। রুপু দুই মেয়াদে এই সংগঠনের সাধারণ থাকার পর এবার নিয়ে দুই মেয়াদের সভাপতি হলেন। দীর্ঘ এই সময়ে আবাহনীর ম্যানেজার পদ থেকে বিতারিত এই ব্যক্তি দেশের প্রতিষ্ঠিত অনেক কোচকে সদস্যপদ না দিয়ে অনামী অনেককে সদস্য বানিয়ে নিজের ভোটব্যাংক বড় করেছেন বলে অভিযোগ আছে। সেটাই সত্যি হয়েছে। ৪৪ জন ভোটারের মধ্যে রবিবার ভোট প্রয়োগ করেছেন ৪০জন। এর মধ্যে ২৯ ভোট পেয়েছেন রুপু, নিপু পান ১১ ভোট। বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক, রুপুর আস্থাভাজন আতিকুর রহমান এবারও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিপক্ষ মুহিদুর রহমান মিরাজ পেয়েছেন ১২ ভোট। পদগুলোতে হয়নি নির্বাচন।
তবে ভোটাভুটি ছাপিয়ে গেছে সদস্যপদ না পাওয়া প্রতিষ্ঠিত একঝাক কোচের ক্ষোভ প্রকাশে। সোনালী অতীত ক্লাবে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালে বঞ্চিত কোচরা একাট্টা হয়ে বসে ছিলেন ক্লাবের আঙিনায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে কোচিং করানো এবং বসুন্ধরা কিংসের সাবেক সহকারী কোচ আবু ফয়সাল এসেছিলেন সদস্যপদের রশিদ হাতে নিয়ে। ২০১২ সালে সদস্যপদ পেতে ১০০০ টাকা দিয়েছিলেন সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার। সেই রশিদ দেখিয়েও সদস্যপদ পাননি তিনি। এরকম অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। তারাই এসে রুপুর এই পকেট সংগঠনের বিরুদ্ধে সরব হন রবিবার। তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। ভোটের ম্যাকানিজমে রুপু-আতিককে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি শেষ মুহূর্তে প্রার্থী হওয়া নিপু-মিরাজ।