ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে বোর্ড অব মাদ্রাসা এডুকেশন অ্যাক্ট, ২০০৪ কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
এ ছাড়া এ আইন ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করে মন্তব্য করে রাজ্য সরকারকে মাদ্রাসা বন্ধ করে বর্তমান মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গত শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্টে বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং রয়টার্স।
এর আগে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছিলেন আইনজীবী অংশুমান সিং রাঠোর। তার করা আবেদনের শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানালেন আদালত।
উত্তরপ্রদেশে মোট ১৬ হাজার ৫১৩ টি স্বীকৃত এবং ৮ হাজার ৪৪৯টি অস্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে যেখানে প্রায় ২৫ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, মাদ্রাসা আইনটি "বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন, ১৯৫৬ এর ধারা ২২ এর লঙ্ঘন করেছে।
আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যটির মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইফতিখার আহমেদ জাভেদ বলেন, বোর্ড রায়টি ভালোমত অধ্যয়ন করবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন , "২০ বছর পর মাদ্রাসা শিক্ষা আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। স্পষ্টতই কোথাও ভুল হয়েছে। আমাদের আইনজীবীরা আদালতে তাদের মামলা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি।"
এছাড়া সিনিয়র অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের (এআইএমপিএলবি) সদস্য মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহালি বলেন, ‘এই আদেশকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা উচিত।‘
হাইকোর্টের এই আদেশ মাদ্রাসাগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেকার হয়ে পরার পাশাপাশি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের আর একমাসও বাকি নেই। এবারও নির্বাচনে জিততে চায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে এই রায়ের কারণে মুসলমানদের সঙ্গে দলটির দূরত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবারের এই রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় উত্তর প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি বলেন, ‘এই রায় তো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়নি। এই রায় দেওয়া হয়েছে মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে। আমরা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নই। তবে, আমরা বৈষম্য, অবৈধ ফান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে। সরকার এই রায় নিয়ে কাজ করবে।’
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ইমেইল পাঠানো হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।