শেখ হাসিনা সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করছেন। স্বাধীনতা দিবসের শপথ হোক প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতে আনা।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ সমাজসেবা অধিদপ্তর মিলনায়তনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ.ফ.ম রুহুল হক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম সেখ।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য এবং একজন মানুষও যেন স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত না হয় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আমরা যারা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আছি আমাদের কাজ সে জায়গাটায়। একজনও যেন পিছিয়ে না থাকে। প্রত্যেককে আমাদের উন্নয়নের মূল ধারায় যতদূর সম্ভব নিয়ে আসতে হবে। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা কাজটি করার সুযোগ পেয়েছি। সে দায়িত্বটি আমাদের ।

মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যারা নতুন দায়িত্ব পেয়েছি এবং আপনারা যারা আগে থেকে কাজ করছেন, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবো। পিতা মুজিব যে কথাটি বলেছেন, তার কন্যা যেটি মনে করেন, জনগণ মানে আমাদের সংবিধানের সাত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণ, দেশের সকল জনগণ। কোনো সাম্প্রদায়গত কারণে, কোনো বৃত্তির বা পেশার কারণে কিংবা ভৌগিলিক কারণে যে মানুষটি কোনো ধরনের প্রান্তিকতার শিকার সে মানুষটি পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষকে মূল ধারায় নিয়ে অসতে হবে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জঞ্জাল পরিষ্কার করেছেন। সেই জঞ্জাল আমাদের পরিষ্কার করতেই হবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই হবে। তিনি আজকে দেশকে উন্নয়নের একটি জায়গায় নিয়ে এসছেন। আমরা আজকে যখন এই বিশাল বিশাল অবকাঠামো দেখি, পদ্মা সেতু , এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা সমুদ্র বন্দর, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেখি, এসব কিছুই তার নেতৃত্বের কারণে হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের দিকে সারা বিশ্ব অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকে। পদ্মা সেতু করতে দেবে না, সাহসী পিতার সাহসী কন্যা করে ফেললেন পদ্মা সেতু। সারা বিশ্বকে, বিশ্ব মোড়লদের চোখ রাঙানীকে উপেক্ষা করে, নিজস্বে অর্থায়নে সেতু হলো। সারা বিশ্বে মোড় ঘুরে গেল বাংলাদেশের। 

ডা. দীপু মনি বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের অভ্যুত্থান সম্পর্কে বিশদভাবে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা বাঙালি না মুসলমান এ প্রশ্ন ৫২ সালে মীমাংসা হয়ে গেছে। আমরা সবাই বাঙালি একই সঙ্গে আমরা সবাই মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা কেউ যদি কোনো ধর্ম বিশ্বাস না করে সেটি তার নিজস্ব বিষয়। আমরা বলেছি, ধর্ম নিয়ে কারো উপরে কেউ চাপাচাপি করতে পারবে না। ইসলাম ধর্মের বিধানেও একই কথা আছে। যার যার ধর্ম তার তার কাছে।

এর আগে মন্ত্রী সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।