৫০ কিলোমিটারে দুই মাসে ১২ মৃত্যু

কুড়িগ্রাম-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ কিলোমিটার। সড়কটিতে গত দুই মাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১২ জনের। একের পর এক এই সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন তরতাজা মানুষ। আবার অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি সকালে ভুরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের পাটেশ্বরী তালতলা ব্রিজের ওপর ভটভটি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওই সড়কের পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কোম্পানি মোড় এলাকায় অবৈধ ভটভটির ধাক্কায় আরও দুজন নিহত হয়। এর আগে একই সড়কে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীসহ একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ভুরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কের পাথারি মসজিদ বাজার এলাকায় মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি নৈশ কোচের চাপায় মহিজউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

আবার ২২ ফেব্রুয়ারি ভুরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কে বাঁশেরতল এলাকায় মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও নারীসহ নয়জন আহত হন। একই দিন ওই সড়কের মধ্য কুমারপুর বাজার তেলের পাম্প মোড়ে অটোরিকশার সঙ্গে  মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে লিটন নামের এক মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন।

পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ভুরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কের ধরলা সেতুর পাশে ভুরুঙ্গামারী থেকে ছেড়ে আসা পাথর বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে  মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কুড়িগ্রাম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়।

এর আগে ভুরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়কের আন্ধারিঝাড় বাজারের জাবের ম-লের চাতালের সামনে ঢাকাগামী নৈশ কোচের ধাক্কায় তিন  মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে মারা যান। এর আগে ওই এলাকায় ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী শালী-দুলাভাই এর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ভুরুঙ্গামারী  থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নৈশ কোচের সঙ্গে আন্ধারিঝাড় বাজারে প্রবেশের আগে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কায় ওই বাসের হেলপার আসাদুল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়াও ৯ মার্চ কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের পাটেশ্বরী এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের চাপায় এক ভিক্ষুক নিহত হন।

কুড়িগ্রাম-সোনাহাট স্থল বন্দর সড়কের কুমারপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির প্রশস্ততা বৃদ্ধির ফলে চালকরা অতিরিক্ত স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।

এলাকাবাসী আমজাদ, রবিউল, শাহআলম ও এরশাদুল হক বলেন, রাস্তায় এত পরিমাণ অটোরিকশা ও তিন চাক্কার ভটভটি বেড়েছে যার কারণে হাঁটা চলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বানিউল আনাম বলেন, আমরা এই সড়কে দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছি। সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মামলা দিচ্ছি।