'একদিন গ্রেটদের কাতারে নাম লেখাবে এনদ্রিক'

খেলার ৫০ মিনিটে দর্শনীয় এক ভলিতে করা গোল করলেন এনদ্রিক। তারপরই ছুটলেন ডান পাশের গ্যালারির দিকে। সতীর্থরা ততক্ষণে তাকে ঘিরে ধরেছেন। উদ্‌যাপন করে এনদ্রিক ছুটে গেলেন গ্যালারির দিকে। বাঁ হাতের তর্জনী উঁচু করে কাকে যেন খুঁজছিলেন। তারপরই পেয়ে গেলেন বাবা ডগলাসকে। ছেলেকে কাছে পেতেই জড়িয়ে ধরলেন তিনি। বাবার আদর গায়ে মেখে ১৭ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার আবার ফিরে যান মাঠে।

আর কোনো গোল পাননি অবশ্য। তবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিজের অভিষেকটা তিনি রাঙিয়ে নিয়েছেন। এই মাঠই যে আগামী জুলাই থেকে হবে তার ঘরের মাঠ। তিনি যে যোগ দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদে।

শেষ বাঁশি বাজার সময় স্পেন-ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচের স্কোরলাইন ৩-৩। খালি চোখে দেখলে ড্র হয়েছে। তবে এনদ্রিকের জন্য যে এটা অন্যরকম জয়। গ্যালারিতে তার প্রেমিকা গাব্রিয়েলিও ছিলেন। ম্যাচ শেষে দুজনেরই দেখা হয়েছে। বাবা আর প্রেমিকাকে স্বাক্ষী রেখে বার্নাব্যুতে নিজের অভিষেক রাঙালেন তিনি।

গত সপ্তাহে ওয়েম্বলিতে তার দেওয়া গোলেই ইংল্যান্ডকে হারায় ব্রাজিল। আর কাল রাতে স্পেনকেও জিততে দেয়নি তারা। সেখানেও গোল আছে এনদ্রিকের। যা দেখে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ লিখেছে—‘বার্নাব্যুতে নিজেকে চিনিয়েছেন এনদ্রিক।’ শুধু বার্নাব্যু নয়, এই এক সপ্তাহে গোটা ইউরোপকেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এনদ্রিক। 

আর সেই ‘জাত’টা কোন ঘরানার, সেটা ম্যাচ শেষে বলেছেন ব্রাজিলের কোচ দরিভাল জুনিয়র, ‘সে (এনদ্রিক) যদি নিজের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে তাহলে গ্রেটদের কাতারে নাম লেখাবে।’

সেই পূর্ণ বিকাশের জন্য আপাতত তাই অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। অপেক্ষায় রিয়ালও। এনদ্রিকের বয়স ১৮ হওয়ার পর-ই যে তাকে তারা খেলাতে পারবে। চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা আগেই সেরে রেখেছে রিয়াল। স্পেন-ব্রাজিল ম্যাচ শেষে বার্নাব্যুতে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে ঢুকে এনদ্রিককে সে কথাই বলেছেন রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগোর সামনে এনদ্রিকের কাঁধে হাত রেখে পেরেজ বলেছেন, ‘আমরা তোমার অপেক্ষায় আছি।’