রমজান শেষে সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার: এবি পার্টি 

এবি পার্টির নেতারা বলেছেন, অনির্বাচিত দখলদার সরকারের অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় দেশ যেন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে চলছে। অভাবের তাড়নায় এক মা তার শিশু সন্তানকে বাজারে বিক্রি করেছেন। সড়কের অব্যবস্থাপনায় মূল্যবান জীবন ঝরে পড়ছে প্রতিদিন। সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুর মিছিল আর অভাব জাতিকে ১৯৭২-৭৫ সালের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

মাসব্যাপী টানা গণইফতার কর্মসূচির ১৬তম দিনে আজ বুধবার বিজয় নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন বিজয় একাত্তর চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।

এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্যসচিব ড. আবু ইউসুফ মোহাম্মদ সেলিম, এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইসমাইল, বাবুল বিশ্বাস, যুগ্ম সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, মো. আকতার হোসেন, আব্দুর রহমান, মো. কামরুজ্জামানসহ ভাসানী অনুসারী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নানা ছলনায় জনগণকে প্রতারিত করে বার বার ক্ষমতায় আসছে। এবি পার্টিসহ আমরা সকল বিরোধীদল এই সরকার পতনের একদফা আন্দোলন করছি। আমরা আপনাদের ধন্যবাদ জানাই আপনারা এই প্রতারণামূলক নির্বাচনে অংশ নেন নাই। রমজান শেষে আমরা এই পতন আন্দোলনের জোরদার করব ইনশাআল্লাহ। এই দখলদার সরকারের অনিয়ম আর দুর্নীতিতে দেশ ডুবতে বসেছে, যা আমরা আর চলতে দিতে পারি না।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের গণইফতারে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয় তাদের বুঝতে হবে নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য পরিশ্রম করতে হবে। মানুষের কাছে হাতপাতা সম্মান জনক নয়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চরম সমস্যায় রয়েছে। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আমরা দেশ পুনর্গঠনের কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে সবাইকে শামিল হতে হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্যসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগ আজ ক্ষমতা দখল করে দেশের জনগণের টাকা লুট করে মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। এই জালিমের মসনদ ভাঙতে হবে।

তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী বলেছিলেন আমার দেশের মানুষ কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না। বর্তমান শাসকেরা সমাজে যে বৈষম্য তৈরি করেছে তা ভেঙে বৈষম্যহীন সমাজ আমাদের নতুন করে তৈরি করতে হবে। তিনি গণইফতারের মতো মহতি উদ্যোগের জন্য এবি পার্টির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

গণ ইফতারে আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বি এম নাজমুল হক, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এ বি এম খালিদ হাসান, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার ফারুক, উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির, সদস্যসচিব সেলিম খান, দক্ষিণের যুগ্ম সদস্য সচিব আহমাদ বারকাজ নাসির, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমেনা বেগম, রুনা হোসাইন, মশিউর রহমান মিলু, রিপন মাহমুদ, যুবপার্টি মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব শাহীনুর আক্তার শীলা, পল্টন থানা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি, সদস্যসচিব রনি মোল্লা, যাত্রাবাড়ী থানা আহ্বায়ক সিএমএইচ আরিফসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।