রেকর্ডের পাতা ওলটপালট করে দেওয়ার দিন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে হারিয়ে আসরের প্রথম জয়ের মুখ দেখল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। জয়ের ব্যবধান ৩১ রানের।
২০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে হায়দরাবাদের রান ৩ উইকেটে ২৭৭। যা ফ্রাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের কীর্তি ছিল মেলবোর্ন স্টারসের ২ উইকেটে ২৭৩। ২০২২ আসরে হোবার্ট হারিকেনের বিপক্ষে ম্যাক্সওয়েল ঝড়ে এ রান করেছিল দলটি। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের ২ উইকেটে ২৬৭। ২০১৯ আসরে জ্যামাইকা তালাওয়াসের বিপক্ষে এ রান করে তারা। আর আইপিএলে এর আগে সর্বোচ্চ দলীয় রান ছিল ৫ উইকেটে ২৬৩। ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে যা করেছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের কীর্তি নেপালের দখলে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেটে ৩১৪ রান করেছিল নেপাল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৮ রান করার কীর্তি আছে আফগানিস্তান ও চেক রিপাবলিকের।
অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় মুম্বাইও শুরু করে দুর্দান্তভাবে। প্রথম ৬০ বলে ১৪১ রান তুললেও পরের ৬০ বলে আসে ১০৫ রান। হারলেও রাজীব গান্ধি স্টেডিয়ামের দর্শকরা দেখেন ক্রিকেটে ব্যাটারদের প্রতাপ ছড়ানো একটি দিন।
মুম্বাইয়ের ইনিংস থামে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৬ রানে। দুই দল মিলে মোট রান হয় ৫২৩। যা আইপিএলে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১০ সালে চেন্নাই–রাজস্থান ম্যাচে ৪৬৯ রান। হায়দরাবাদ–মুম্বাই ম্যাচের ৫২৩ রান ছেলেদের স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিরই সর্বোচ্চ। পেছনে পড়ে গেছে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ৫১৭ রান।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ম্যাচে হওয়া ৩৮টি ছয় সর্বোচ্চ। হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যানরা মেরেছেন ১৮টি ছয়, এরপর মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানরা মেরেছেন ২০টি। এতো দিন ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড ছিল ২০১৮ আফগান প্রিমিয়ার লিগের বাল্ক–কাবুল ম্যাচের ৩৭ ছয়। দক্ষিণ আফ্রিকা–ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই ম্যাচে হয়েছিল ৩৫টি ছক্কা। ২০১৮ আইপিএলে বেঙ্গালুরু–চেন্নাই ম্যাচে হয়েছিল ৩৩টি ছয়। সেই সঙ্গে এ ম্যাচে হয়েছে ৩১টি চার। অর্থাৎ মোট ৬৯টি বাউন্ডারি।
শুরুতে নেমে ৪৫ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও ২৪ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন ট্রাভিস হেড। ১৮ বলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দ্রুততম ফিফটি করেও টিকিয়ে রাখতে পারেননি। তিনে নামা অভিষেক শর্মা ১৬ বলে ফিফটি করে হেডের মুকুট নিজের মাথায় চাপিয়ে নেন। ২৩ বলে ২৭৩ স্ট্রাইক রেটে ৬৩ রান করেন অভিষেক। ২৮ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন এইডেন মার্করাম। আর ৪ চার ও ৭ ছয়ে ৩৪ বলে অপরাজিত ৮০ রান করেন হেইনরিখ ক্লাসেন। আইপিএল অভিষেকের দিন ১৭ বছরের কেওয়েনা মাফাকা ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬ রান হজম করেন।
জবাবে তিলক ভর্মা ৩৪ বলে ৬৪ ও টিম ডেভিড ২২ বলে ৪২ রান করেন। এছাড়া ইশান কিশান ১৩ বলে ৩৪, রোহিত শর্মা ১২ বলে ২৬, নামান ধির ১৪ বলে ৩০ রান করেন। জয়দের উনাদকাট ও প্যাট কামিন্স ২টি করে উইকেট পান।