দেরিতে জমা বাজারে বেশি দামের খড়গ

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরের বিমান অফিসের ভেতরেই আড়ং-এর শোরুম। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা সাধারণের ভিড়ে গিজ গিজ করছে পুরো ফ্লোর। যে যার পছন্দমতো কাপড় কিনছেন। শোরুমের চারটি ক্যাশ কাউন্টারে দেখা যায়, পণ্যের মূল্য পরিশোধের জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ক্রমেই জমে উঠছে চট্টগ্রামের ঈদবাজার। আড়ং শোরুমের চিত্র তারই একটি অংশ।

রোজার অর্ধেক ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। রোজা যতই যাচ্ছে ততই মানুষ মার্কেটমুখী হচ্ছে। আড়ং শোরুমের সেলসম্যান রাসেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোজার শুরুতে ক্রেতাদের খুব বেশি ভিড় না থাকলেও যতই দিন যাচ্ছে ততই ক্রেতাদের পদচারণা বাড়ছে। তিনি বলেন, অন্য মার্কেটগুলোতে ক্রেতারা শুধু কিনতে যায় না ঘুরতেও যায়। কিন্তু এখানে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের পণ্য কিনতে আসেন, দেখতে নয়।

আড়ং-এ ঈদের শপিং করতে যাওয়া নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাহেনা আকতার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, পণ্যের গুণগত মানের কারণেই প্রতি বছর ঈদের শপিং করতে এখানে আসি। এখানে একই ছাতার নিচে শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি থেকে শুরু করে শিশুদের পোশাক, জুতা, সেন্ডেল সবকিছু পাওয়া যায়। তাই দৌড়াদৌড়ির ঝামেলা থাকে না। তবে, এখানে পণ্যের দাম একটু বেশি।

নগরীতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কেনাকাটার জন্য জনপ্রিয় জহুর হকার্স মার্কেট। বুধবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর মার্কেটটি। মোটামুটি সীমিত দামের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পোশাক কেনাকাটার জন্য ভরসা করা যায় এখানে। বিভিন্ন দোকানের সেলসম্যানদের হাঁকডাকে সরগরম পুরো মার্কেট। মার্কেটের প্রায় সবগুলো দোকানই ছোট আকারের। আর সেখানে বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে ঠাসা। দোকানের ভেতর ক্রেতাদের নড়াচড়ার জায়গা না থাকলেও প্রায় প্রতিটি দোকানেই রয়েছে ক্রেতাদের উপস্থিতি।

মার্কেটের আল করিম স্টোরের মালিক আবদুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সীমিত আয়ের লোকজন তাদের পছন্দের ঈদের পোশাকের জন্য জহুর হকার্স মার্কেটকেই বেছে নেন। তবে এখন কিছুট ভিড় বাড়লেও রমজানের অর্ধেক পর্যন্ত ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল বলে জানান তিনি।

মধ্যবিত্তের মার্কেট হিসেবে পরিচিত টেরিবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পাইকারি বিক্রি শেষ করেছে ১৫ রমজানের আগে। এখন চলছে নগদ টাকায় বিক্রি। এবারের বেচাকেনা মোটামুটি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা নাছির উদ্দিন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির ব্যাপারে টেরিবাজারের ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে ৮৫টি মার্কেটে প্রায় ৩ হাজার দোকান রয়েছে। এসব দোকানে মোটামুটি সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

নগরীর অভিজাত বিপণি কেন্দ্র সানমার ওশ্যান সিটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নামিদামি সব ব্র্যান্ডের পোশাকে ভরপুর বিভিন্ন শোরুমে। শৈল্পিক, মুন ওয়াকার, জেন্টল পার্ক, ক্যাটস আইসহ বিভিন্ন দোকানে থরে থরে সাজানো নানা ডিজাইনের পোশাক। ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য দোকানের সামনে ঝুলানো হয়েছে আকর্ষণীয় সব পোশাক। বিভিন্ন ধরনের পোশাক ছাড়াও এই মার্কেটের আলাদা আলাদা ফ্লোরে রয়েছে জুতা, গহনা, মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাহার।

সানমার ওশান সিটি মালিক সমিতির সভাপতি আসাদ ইফতেখার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সচেতন ক্রেতারা পণ্যের মান ও দাম বিবেচনায় সবসময় সানমারকেই অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন, ঈদ মার্কেট এখনো জমে ওঠেনি, তবে জমতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে চাকরিজীবীর হাতে বেতন-বোনাস এলেই ক্রেতারা ঈদ শপিংয়ে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।