জেলেদের জন্য ১৭২ কোটি টাকা অনুদান জাপানের

জেলেদের মাছ আহরণের সক্ষমতা বাড়াতে ১৭২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকার। জাপান সরকারের অনুদান সহায়তায় মৎস্য আহরণ, উপকূলে অবতরণ এবং হস্তান্তরে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে ‘বিনিময় নোট’ ও ‘অনুদান চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

ইআরডি জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে কক্সবাজারে বিএফডিসির মৎস্য আহরণ কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মাছ ধরার যন্ত্রপাতি উন্নত করার মাধ্যমে মৎস্য আহরণ ও উপকূলে অবতরণের মান উন্নয়ন, জেলেদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিতরণ ব্যবস্থায় উন্নতি করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য ‘প্রজেক্ট ফর দি ইমপ্রুভমেন্ট অব বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ইন কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জাপান সরকার বাংলাদেশ সরকারকে ২২৯ কোটি ৪০ লাখ জাপানিজ ইয়েন (সমপরিমাণ আনুমানিক ১৭২ কোটি ৩১ লাখ ৬২ হাজার টাকা বা ১ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডলার) অনুদান সহায়তা প্রদান করবে।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে ‘বিনিময় নোট’ ও ‘অনুদান চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী স্বাক্ষর করেন। জাপান সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি ‘বিনিময় নোট’ এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাইকা’র চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইছিগুছি তমোহাইদ ‘অনুদান চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।

দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের একক বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান সরকার ৩২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। নমনীয় ঋণ ছাড়াও জাপান বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।