দেশীয় চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেতা বাপ্পারাজ। অভিনয়ের পাশপাশি নির্মাণেও ঝুঁকেছিলেন। তবে মাঝেমধ্যে পর্দায় দেখা গেলেও এখন একদমই অন্তরালে থাকেন। দেশের আলোচিত এই অভিনেতার মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন
ঈদে অনেকগুলো চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে, আপনার কি মনে হয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে?
কোথায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সবাই ঈদকে কেন্দ্র করে ছবি মুক্তি দিচ্ছে, এতে করে তো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ঈদ ছাড়া বাংলা ছবি চলে না। হয়তো একটা বা দুইটা সিনেমা চলবে। বাকিগুলো তো চলবে না। তাছাড়া অনেকগুলো তো ভাগে হলও পাবে না। আমাদের দেশের হল সংখ্যা কত? সবাই কি হল পাবে? পাবে না।
কেন চলবে না মনে হচ্ছে?
দেখেন ঈদে ছবি চলে ঢাকায়। ঢাকাতেই হল যা আছে, তাও এতগুলো ছবি দেখানো সম্ভব না। তাছাড়া ঢাকার এত মানুষও তো থাকবে না। বাড়িতে চলে যাবে। আর গ্রামে টো এখন সেভাবে হলও নেই। ফলে ছবিগুলো দেখার সুযোগ নেই। বরং ঈদের পর কিছু ছবি মুক্তি দিলে কিছু সিনেমা ধীরে ধীরে চলত। কিন্তু সবার লোভ ঈদ।
তাহলে কি দেশীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে না?
কীভাবে দাঁড়াবে? যখন ভালো ভালো ছবি নির্মাণ হচ্ছিল, ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াতে ধরেছিল; তখনই চলচ্চিত্রের নেতারা হিন্দি ছবি আমদানির ঘোষণা দিল। শিল্পী সমিতি টাকা পাবে। শিল্পীরা কী পাবে? তারা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে। হিন্দি ছবির আমদানিতে শিল্পীদের কোনো লাভ নেই। লাভ নেতাদের, তারা নেতা নেত্রী হয়ে টাকা কামাবে। কিন্তু আমাদের মতো শিল্পীরা বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াবে।
এই একটাই কারণ?
আরও কারণ আছে। আমাদের দেশে এখন নির্মাতা নেই। ভালো নির্মাতা কে আছে বলেন? বাংলাদেশে সে অর্থে ভালো কোনো পরিচালক নেই। ভালো পরিচালক, সঙ্গে ভালো গল্প না হলে তো ভালো সিনেমা হবে না। আমাদের ভালো মেকার দরকার। তাহলে ভালো ভালো সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব হবে। অথচ এফডিসির বাইরে থেকে যারা নির্মাণে আসছেন, তারাও শাকিবকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। ফলে আলাদাভাবে চলচ্চিত্রের এগিয়ে যাওয়া মুশকিল।
তাহলে এর থেকে পরিত্রাণ কিংবা চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য করণীয় কী?
এখন সবাই শাকিব খান কেন্দ্রিক সিনেমা বানাতে চায়। সবাই শিওর শট খেলতে চায়। শাকিবের সিনেমা বানালেই ব্যবসাসফল। এই যে রায়হান রাফি, যে নিজ নামে পরিচিত হয়েছিল। সেও শাকিব খানের দিকে ভিড়ে গেল। ওই সিনেমা হিট হলে নাম হবে শাকিব খানের। সবাই বলবে শাকিবের সিনেমা হিট। তখন কিন্তু কেউ বলবে না রায়হান রাফির সিনেমা। পরিত্রাণের উপায় যদি বলেন, তাহলে তো বলতেই হয় শাকিব খানকে সিনেমা ছেড়ে দিতে হবে। তখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ডুবে যাবে। আর ডুবে গেলেই উপায় খুঁজে পাবে মানুষ।
ওটিটি কনটেন্ট নিয়ে আপনার অভিমত কী?
এটাই একটা সম্ভাবনার জায়গা। বাংলা ভালো ভালো কন্টেন্ট তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশে নির্মিত কিছু দারুণ সিরিজ ফিল্ম আমি দেখেছি। আমার মনে হচ্ছে, সামনে এই জায়গাটা আমরা ভালো কিছু করতে পারব। কলকাতার নির্মাতারাও ভালো বানাচ্ছেন। এক ধরনের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ফলে জিনিসগুলো ভালো হচ্ছে। আর এখন এমন একটা সময় মানুষ ঘরকেন্দ্রিক বিনোদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ঢাকায় ৩টার শো সিনেমা দেখতে চাইলে সকাল ১টায় বের হতে হবে। একটা পুরো দিন যাবে। ফলে মানুষ বিনোদনটা এখন ঘরে নিচ্ছে।
আপনি নির্মাণে নিয়মিত হবেন না?
না আমি সিনেমা বানাব না। বাবা মারা যাওয়ার পর একটা অন্ধ দিক দেখেছিলাম। ফলে এখান থেকে একদম ক্লোজ করে নিয়েছি। অভিনয় করব। পছন্দের চরিত্র পেলে অভিনয়টা করব। আমি শিল্পী, এটাই আমার পরিচয়।