আজও উত্তাল বুয়েট, ৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের দাবি

গত ২৮ মার্চ ক্যাম্পাসে মধ্যরাতে ছাত্রলীগের প্রবেশের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বিকে স্থায়ী বহিষ্কারের আল্টিমেটামসহ নতুন দাবি উপস্থাপন করেন তারা।

শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ চলাকালে ব্রিফিং করে এ সিদ্ধান্ত জানান আন্দোলনকারীরা।

'এক, দুই, তিন চার ডিএসডাব্লিউ গদি ছাড়', আমি কে তুমিকে, আবরার, আবরার' 'বুয়েট  বাঁচাও' ইত্যাদি স্লোগান ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এ রিপোর্ট লেখা অবধি এ বিক্ষোভ চলমান রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরিবর্তিত দাবিসমূহ হলো

১. বুয়েটের  নীতিমালা ভঙ্গ করার কারণে আজ দুপুর ২টার মধ্যে লিখিতভাবে ইমতিয়াজ রাব্বির স্থায়ী একাডেমিক বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

২. একই ঘটনায় ইমতিয়াজ রাব্বির সাথে বুয়েটের বাকি যেসব শিক্ষার্থীরা জড়িত ছিল তাদের একাংশের নাম পরিচয় ছবি এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে চিহ্নিত এ এস এম আনাস ফেরদৌস, মোহাম্মদ হাসিন আরমান নিহাল, অনিরুদ্ধ মজুমদার, জাহিরুল ইসলাম ইমন এবং সায়েম মাহমুদ সাজেদিন রিফাতকে বুয়েট থেকে স্থায়ী একাডেমিক এবং হল বহিষ্কার করতে হবে।

৩. বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, তারা কেন-কীভাবে প্রবেশ করার অনুমতি পেলো এ ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত নোটিশ এবং বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

৪. স্টুডেন্টদের নিরাপত্তার জন্য "রাত সাড়ে ১০টার পরে সকল ছাত্রছাত্রীর ক্যাম্পাসে থাকা নিষেধ" এবং যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদেরকে রাত সাড়ে ১০টার বেশি সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হলে সেক্ষেত্রে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর (ডিএসডাব্লিও) স্যারের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে।

(ক) এক্ষেত্রে যদি বহিরাগতদের অনুমতি দেয়া নাই হয়ে থাকে, তাহলে ডিএসডাব্লিও স্যারের প্রটোকল ভেঙে বহিরাগতরা মধ্যরাতে সেমিনার রুমে মিটিং করতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিএসডাব্লিও স্যার নিজের প্রটোকল অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ।

(খ) আর যদি বহিরাগতদের পারমিশন দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে বুয়েটের রেজিস্ট্রার অফিসের প্রটোকল: ১১ অক্টোবর, ২০১৯ এ দেয়া ঘোষণা "বুয়েটে সকল প্রকার রাজনৈতিক সংগঠন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ" ইহার লঙ্ঘন করেছেন ডিএসডাব্লিও স্যার।

(গ) ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম, সেমিনার রুম, ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন জায়গার ব্যবহার ডিএসডাব্লিউ আওতাধীন। উনি বলেছেন, এ জায়গাগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে উনি অনুমতি দেননি। এক্ষেত্রে উনার অনুমতি ব্যতিরেকে বহিরাগতদের এ জায়গাগুলো ব্যবহার করার মতো ধৃষ্টতামূলক আচরণ ডিএসডাব্লিউ এর দায়িত্বপালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এমন ডিএসডাব্লিও এর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ চাই।

৫. আজ ৩০ মার্চের টার্ম ফাইনাল আমরা বর্জন করছি এবং আগামীকাল ৩১ মার্চের টার্ম ফাইনাল সহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করছি।

৬. আন্দোলনরত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না এই মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। 

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বুধবার মধ্যরাতের পর ক্যাম্পাসে ‘বহিরাগতদের’ প্রবেশ ও রাজনৈতিক সমাগমের মূল সংগঠক পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন, যিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গতকাল শুক্রবার উত্তাল ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। পাঁচ দফা দাবিতে গতকাল বেলা আড়াইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ করেন তাঁরা। তাঁরা দাবি আদায়ে আজ শনিবার ও কাল রোববারের (৩০ ও ৩১ মার্চ) পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। ইমতিয়াজকে বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, হলের সিট বাতিলসহ তাঁর সহযোগীদেরও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারেরও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।