চট্টগ্রামে জাল নোট আতঙ্ক

কচকচে নতুন টাকার নোটে আনন্দ বাড়ে ঈদে। তাই এই নোটের প্রতি সব বয়সের মানুষের বাড়তি আকর্ষণ থাকে। যে কারণে অনেকেই বাড়তি দামে খোলাবাজার থেকে এই নোট কিনে নেন। কিন্তু ঈদ সামনে রেখে জালিয়াত চক্রের ছাপানো জাল টাকার নোট নিয়ে আতঙ্ক চলছে চট্টগ্রামের ঈদবাজারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ এলেই জাল নোট কারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন; বিশেষ করে রমজানের শেষ ১০ দিন যখন ঈদের বাজারে বেচাকেনা ও ব্যস্ততা বাড়ে, ওই সময়টাকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় জাল নোট চক্র। বিভিন্ন বিপণি কেন্দ্রে আসল নোটের সঙ্গে মিশিয়ে জাল নোট চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। ক্রেতা সামলানোর ব্যস্ততায় এ সময় প্রতিটি নোট যাচাই-বাছাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যে কারণে সহজে জাল নোট কারবারিরা ধরা পড়ে না।

নগরীর টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম ঈদের একটি বড় বাজার। যে কারণে জাল নোটের কারবারিরা চট্টগ্রামকে তাদের টার্গেটে পরিণত করতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল নোট ধরা পড়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা রোধে এখন থেকেই প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও যথাসম্ভব টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।

ঈদবাজারে জাল নোট চক্রের অপতৎপরতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক বিশেষ টিম সাদাপোশাকে জাল নোট কারবারিদের ধরতে কাজ করছে। বিভিন্ন শপিং মলে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। অতীত রেকর্ড দেখে জাল নোট চক্রের সদস্যদের গতিবিধির ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।

ঈদবাজারে জাল নোট চক্র ঠেকাতে সিএমপির প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বিশেষ শাখার উপকমিশনার মো. মনজুর মোরশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রমজানের ঈদ ও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন সময় নোট জালিয়াত চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। বিষয়টি মাথায় রেখে নগর পুলিশ ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউনিফর্মধারী ও সাদাপোশাকে পুলিশের একাধিক টিম এ নিয়ে মাঠে কাজ করছে। কোথাও কোনো ধরনের সন্দেহজনক তথ্য পেলেই তা নজরে রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদেরও বলেছি, তারা যেন এ ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে লেনদেন করেন এবং সন্দেহজনক কিছু পেলে যেন পুলিশকে অবহিত করেন; যাতে পুলিশ দ্রুত এ ধরনের অবাঞ্ছিত কর্মকান্ডের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

সিএমপি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে জাল নোট চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক লাখ টাকার জাল নোট। সবগুলোই ৫০০ টাকার নোট। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, তারা ঢাকা থেকে এসব নোট সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, জহুর হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছিলেন।

এদিকে, ঈদবাজারে জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে জাল নোট প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে বিভাগীয় শহর, জেলা শহরের যেসব স্থানে বেশি জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলোয় বিশেষ স্ক্রিন স্থাপন করে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে।