যাত্রাবিরতির রেস্তোরাঁয় সাহরি ইফতারিতে ‘গলাকাটা দাম’

দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাতায়াতের সময় যাত্রাবিরতির স্থানের রেস্তোরাঁগুলো যাত্রীদের কাছে সাহরি ও ইফতারসামগ্রী বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের ভাষ্য, এতে নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

গতকাল শনিবার যাত্রী কল্যাণ সমিতি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সড়ক পথে দূরপাল্লার যাতায়াতে মাঝপথে বাস কোম্পানি কর্র্তৃক নির্ধারিত বিরতি রেস্টুরেন্টগুলোতে বাসের যাত্রী সাধারণকে সাহরি ও ইফতার করতে হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, ইফতারিতে একটি পেঁয়াজু , একটি বেগুনি, এক পিস জিলাপি, ১-২টি খেজুর, একটি আলুর চপ, ৫০ গ্রাম মুড়ি, ৫০ গ্রাম ছোলা, একটি ছোট সাইজের কলা অথবা এক পিস চার ভাগের এক অংশ আপেল, এক গ্লাস শরবত, ২৫০ এমএল এক বোতল পানি সরবরাহ করে থাকে। এসব ইফতারি যেকোনো সাধারণ রেস্টুরেন্ট থেকে কিনতে সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ টাকা লাগলেও কুমিল্লা, লোহাগড়া, বগুড়া, সিরাজগঞ্জের যেকোনো হাইওয়ে বিরতি রেস্টুরেন্টগুলোতে এ রকম ইফতারির প্লেটপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হারে মূল্য আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে যেসব কোম্পানির বাস যেসব রেস্টুরেন্টে যাত্রাবিরতি দেয় ওইসব রেস্টুরেন্টগুলোর সঙ্গে বাস কোম্পানির বড় অঙ্কের বাৎসরিক কমিশন বাণিজ্য রয়েছে। এ ছাড়াও বাসের চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীসহ কোম্পানির অন্যান্য স্টাফ এসব রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিনামূল্যে খাওয়া-দাওয়া করেন। এসব কারণে রেস্টুুরেন্টগুলো যাত্রী সাধারণের কাছে পরিবেশিত প্রতিটি খাবারের গলাকাটা মূল্য আদায় করছে।’

সাহরিতে পরিবেশিত খাদ্যপণ্যের মূল্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাহরিতে ছোট ছোট পাঁচ পিস গরুর মাংস এসব হোটেলে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তিন পিস মাংস থাকলে এক পিস হাড্ডি, এক পিস চর্বি থাকে। ২৫০ গ্রাম সাইজের এক পিস তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ২০০ গ্রাম সাইজের রুই ২৫০ টাকা, ২০০ গ্রাম ওজনের দুই পিস পাবদা ২০০ টাকা হারে মূল্য আদায় করা হচ্ছে। অধিকাংশ রেস্টুুরেন্টে কেউ এক প্লেট ভাত খেলেও তিন প্লেট ভাতের বিল আদায়ের অপকৌশল হিসেবে জনপ্রতি ভাতের বিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা হারে আদায় করছে। দেড় কাপের সমপরিমাণ পাতলা ডালের মূল্য ২০ টাকা আদায় করছে; যা (দিয়ে) এক প্লেট ভাত কোনোরকমে ভেজানো যায়।’

সাহরি ও ইফতারির মূল্য তালিকা প্রতিটি কোচে লাগানো এবং রশিদ প্রদান করে মূল্য আদায়ের নিয়ম লঙ্ঘন করে ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে রেল কর্র্তৃপক্ষের নিযুক্ত বেসরকারি ইজারাদাররা ইচ্ছেমতো মূল্য আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলছে, নৌপথে বিলাসবহুল লঞ্চের ক্যান্টিনগুলোতে পরিবেশিত সাহরি ও ইফতারির গলাকাটা মূল্য আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের সাহরি ও ইফতারির মূল্য নিয়ন্ত্রণে রেস্টুুরেন্ট মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।