নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারি জলাশয়ে বালু ভরাট করে এর ওপর ‘ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক ডিজিটাল গ্রাফিক্স প্রিন্টিং লিমিটেড’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমিটি দখলে নিয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই মনির আহমেদ। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকার অর্ধকোটি কোটি টাকা মূল্যের এ সরকারি জলাশয় পুলিশি ক্ষমতা খাটিয়ে ভরাট করে তিনি পুরোপুরি কবজায় নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এসআই মনিরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দাবি করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এ কাজ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জায়গা জুড়ে সরকারি জলাশয়। ওই এলাকায় রাস্তার পাশে প্রতি কাঠা জমির মূল্য ১০-১৫ লাখ টাকা। সেই হিসেবে সরকারি জলাশয়টির মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এই সরকারি জমিটি জলাশয় হওয়ার কারণে এটি স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে ছিল। জলাশয়টিতে মসজিদ কমিটি মাছ চাষ করত। জলাশয়টির পাশেই ইমেজ প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যান্ড পেপার কারখানা গড়ে ওঠে। সেই থেকেই কারখানা কর্তৃপক্ষ জলাশয়টি দখলের পাঁয়তারা করে আসছিল। পরে কারখানাটির মালিক পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির আহমেদ জলাশয়ের পাশে প্রথমে এক টুকরো জমি কেনেন। এরপর নিজের পুলিশি ক্ষমতা খাটিয়ে জলাশয়টি পুরোপুরি ভরাট করে নিজেদের মালিকানাধীন আরেকটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল গ্রাফিক্স প্রিন্টিং লিমিটেড নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে কারখানাটির মালিক মনির আহমেদ বলেন, আমি পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই। সরকারি জলাশয়টির পেছনে জমি কিনেছি। তাই জলাশয়টি বালু দিয়ে ভরাট করেছি।
জলাশয়টি ভরাট করতে কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এসিল্যান্ড স্যারের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে বালু ভরাট করেছি।
এ ব্যাপারে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ আলী বলেন, আমি কোনো প্রকার সরকারি জলাশয় ভরাটের অনুমতি দিইনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিমন সরকার বলেন, এ অভিযোগটি ‘মিথ্যা’ ও বানোয়াট। আমি কাউকে মৌখিকভাবে সরকারি জমিতে বালু ভরাটের অনুমতি দিইনি।