গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি এবং বাকিরা পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনের নাগরিক বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাহায্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে) এর প্রতিষ্ঠাতা হোসে আন্দ্রেসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

হোসে আন্দ্রেস এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলায় ডব্লিউসিকে পরিবার কয়েকজন ভাই-বোনকে হারিয়েছি। তিনি বলেন, ইসরায়েল সরকারের এই নির্বিচার হত্যা বন্ধ করা দরকার। মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়া, বেসামরিক ও ত্রাণকর্মীদের হত্যা এবং খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করা দরকার।

দখলদার ইসরায়েলি গাজায় হামলা চালিয়ে শত শত ত্রাণ ও চিকিৎসাকর্মীকে হত্যা করেছে। এর সর্বশেষ ঘটনা ডব্লিউসিকে কর্মীদের হত্যা। হামলার পর এ ঘটনায় তদন্তের কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। ত্রাণ প্রদানে বাধা, ত্রাণ ও চিকিৎসাকর্মীদের হত্যা, ত্রাণের লাইনে নির্বিচার হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যার পরও দেশটির দাবি, তারা মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

এদিকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ত্রাণকর্মীদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক লালজাওমি ‘জোমি’ ফ্রাঙ্ককম। তার মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশ করে এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তনি আলবানিজ।

ইসরায়েলি হামলার আগে গাজায় ডাব্লিউসিকে এর কিচেন থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন অস্ট্রেলিয়ান ত্রাণকর্মী জোমি ফ্রাঙ্ককম। ভিডিওতে তাদের খাবার তৈরি করতে দেখা যায়। 

ত্রাণকর্মীদের হত্যার ঘটনাকে কষ্টকর উল্লেখ করে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি)। এনএসসির মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেন, মানবিক সহায়তা কর্মীদের অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। কারণ, তারা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে।

মার্কিন শেফ হোসে আন্দ্রেস ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বৈশ্বিক খাদ্য ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। ওই বছর ভূমিকম্প বিধ্বস্ত হাইতিতে তৈরী খাবার এবং খাদ্যদ্রব্য ত্রাণ হিসেবে পাঠিয়েছিল সংস্থাটি। তারপর থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংঘাত পরিস্থিতি ও করোনা পরিস্থিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছে ডব্লিউসিকে। বর্তমানে ইউক্রেন-গাজায় সংস্থাটির ত্রাণ তৎপরতা রয়েছে। গাজায় গত ১৭৫ দিন ধরে তৈরি খাবার ও খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করছে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন।