চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে। এছাড়া চলতি বছর মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।
আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাকের ঢাকা অফিস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আপডেট প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি কভিড-১৯ মহামারী থেকে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু মহামারীপরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমাগত ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ঘাটতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক দুই বছরের আপডেটে বলেছে, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আবার বেড়ে ৫ দশমিক ৭ হবে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশের অর্থনীতির সংস্কার খুব জরুরি। পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার একক বিনিময় হার চালু হলে দেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। একক বিনিময় হারে মুদ্রাস্ফীতিও আরও কমবে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। যার ফলে বিনিয়োগে তারল্য সংকুচিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার, আমদানি বিধিনিষেধ এবং জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের ফলে খরচ বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারের পরামর্শ দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে সংস্কার জরুরি। তবে ব্যাংক মার্জারের (একীভূতকরণ) ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়া চলতি অর্থবছর দেশে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে, ফলে বিনিয়োগের দরজা কিছুটা সংকুচিত। খেলাপি ঋণ এখনও অনেক বেশি। রিপোর্টিং মান, সহনশীলতা ব্যবস্থা এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রক প্রয়োগের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরের পরিস্থিতি আরও চাপে রয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, বিনিময় হারের নমনীয়তা তৈরি হলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। কাঠামোগত সংস্কারগুলো অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে চাবিকাঠি হবে।