পরিবারের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে শিকড়ে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার (০৪ এপ্রিল) অফিস শেষে শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। আগে থেকেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চের টিকিট কেটে রাখায় এদিন অনেকেই পরিবার নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন।
সাধারণত বছরের দুই ঈদে ঢাকার চিরচেনা নাগরিক ব্যস্ততা থমকে যায়। এ সময় কোনো কিছুই যেন থামাতে পারে না ঘরমুখো মানুষের ভিড়। নগরীর কোলাহল ছেড়ে তারা শিকড়ের টানে ঘরে ফেরেন। ফলে ঢাকার রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি শুরু হলেও অনেকের জন্য আজই ছিল শেষ কর্মদিবস। ঈদের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা আছে ১০, ১১ এবং ১২ এপ্রিল। এছাড়া শুক্র ও শনিবার (৫ ও ৬ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি এবং রবিবার (৭ এপ্রিল) শবে কদর সরকারি ছুটি হওয়ায় ঈদের আগে অফিস খোলা থাকবে কেবল ৮ ও ৯ এপ্রিল। ফলে অনেকেই ওই দুদিনের ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। এবার ঈদ ও পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে টানা ১০ দিন ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে কথা হয় শহীদুল আলমের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে বিয়ে করেছি। স্ত্রীসহ এবারই প্রথম গ্রামে ঈদ করব। এজন্য আগেই অফিস থেকে ৮ ও ৯ এপ্রিল ছুটি নিয়ে রেখেছিলাম। ঈদের আনন্দ শহরে পাওয়া যায় না, গ্রামে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়। বাসার সবার জন্য শপিং করে এখন প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় আছি।’
একই স্টেশনে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শেষ পরীক্ষা ছিল, তাই এতদিন বাড়ি যেতে পারিনি। এখনো পুরোপুরি ছুটির আমেজ শুরু হয়নি, তাই আগেভাগে বাড়ি চলে যাচ্ছি।’
কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকিট ছাড়া কেউ যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য তদারকি চালাতে দেখা গেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এবার ট্রেনের শতভাগ টিকিট দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। তবে যাদের টিকিট নেই তারা স্টেশন থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটতে পারছেন ২৫ শতাংশ। স্টেশনে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে বরাবরের মতোই রয়েছে ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার অভিযোগ।
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ঈদযাত্রার প্রথম চার দিন রাজধানী ছেড়ে যাবে ৪২টি আন্তঃনগর ট্রেন। আর যাত্রার শেষ তিন দিনে যুক্ত হবে আরও ৬টি ট্রেন, এতে শেষ তিন দিনে রাজধানী ছেড়ে যাবে ৪৮টি করে ট্রেন। সাত দিনে ৩৩ হাজার ৫০০ আসনের বিপরীতে বিক্রি হয়েছে ট্রেনের টিকিট।
এদিকে গত কয়েকদিন গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের ভেতরের কাউন্টারগুলোতে ভিড় না থাকলেও আজ যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। শুক্র ও শনিবার এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এবার বাসযাত্রীদের বড় অংশই অনলাইনে টিকিট কাটছেন। এর ফলে কাউন্টারের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েনি।