বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ বলেছেন, নাজুক রিজার্ভ নতুন করে বৈদেশিক মুদ্রার চাপের সম্মুখীন করতে পারে৷ যখন মুদ্রা সংকট দেখা দেয়, প্রথম এক থেকে দুই মাসে বিনিময় হার ৫০% অবমূল্যায়িত হয়। এই অবমূল্যায়নের ফলে ঋণ গ্রহণের খরচ এবং প্রকৃত আয়ের ওপর স্থায়ী চাপ সৃষ্টি হয়, যা মুদ্রা সংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাবকে নির্দেশ করে।
আজ বৃহস্পতিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন অডিটোরিয়ামে দক্ষিণ এশিয়ায় কী কর্মসংস্থানহীন উন্নয়ন হচ্ছে- শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তার উপস্থাপনায় তিনি বলেন, ফার্মগুলির তুলনায় বসতবাড়ির জলবায়ু অভিযোজন কৌশল কম কার্যকর। কৃষকরা কৃষিখাত থেকে অকৃষিতে অভিযোজন কৌশল হিসেবে অভিবাসন করছে, কিন্তু অকৃষি খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। শুধুমাত্র ন্যূনতম কর্মসংস্থান পর্যাপ্ত নয়; ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মসংস্থান সে অনুসারে বাড়াতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল ২০২৪ এর সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্যানেল আলোচনায় মূল রিপোর্টটি উপস্থাপন করে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ।
আলোচকদের মধ্যে ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়েমা হক বিদিশা এবং বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের জেষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হ্যাভেন।
উপস্থাপনায় ড. ফ্রানজিস্কা ওনসর্গ দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বাধা এবং এই বাধাগুলি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা তুলে ধরেন। অন্যান্য উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির (ইএমডিএ) তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ভালো, তবে তার অনেকটাই ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং পাবলিক সেক্টরের ওপর অতি নির্ভরতার কারণে। যা অন্যান্য উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির গুলোর তুলনায় বেশি৷
তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। জিডিপিতে এর অবদান অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক কম।
তিনি বলেন, উন্মুক্ত বাণিজ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক গুণমান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার উপস্থাপনা দেখায় যে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য-জিডিপি অনুপাত অনেক কম। বাংলাদেশি তৈরি পোশাক (আরএমজি) সেক্টরের উন্নতি হয়েছে এবং ভারতীয় আইটি সেক্টরের উন্নতি হয়েছে, কিন্তু বাণিজ্য বলতে সামগ্রিকভাবে অনেককিছু বোঝায় যার মধ্যে এই খাতগুলোর বাইরের অনেক কিছুও পরে। বাণিজ্যে অতি প্রতিবন্ধকতা দিয়ে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের পথকে শ্বাসরোধ করছে।