বরিশাল নগরীতে বেড়েই চলছে বৈধ-অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা। ঈদ সামনে রেখে এ সংখ্যা বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। এ কারণে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে পাঁচ হাজার যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে অন্তত বৈধ-অবৈধ ৩৫ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। এই সাতগুণ বেশি যানবাহনের চাপে নগরী এখন যানজটের শহর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫৭ বর্গকিলোমিটারের বরিশাল নগরীতে গত কয়েক দিন ধরে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়কের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা অত্যধিক বেড়েছে। ঈদ কেন্দ্র বিপণিবিতানগুলোয় ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিভাগীয় শহর হওয়ায় পাশের জেলা ও উপজেলার বাসিন্দারাও নগরীতে প্রবেশ করছে। এ কারণে নগরীতে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। এ ছাড়া ফুটপাত বেদখল হওয়ায় পথচারীরা মূল সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ায়ও যানজট বেড়েছে। যত্রতত্র যান থামিয়ে যাত্রী ওঠানামাও যানজটের অন্যতম কারণ। ফলে নগরীর সদর রোড, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ, রূপাতলী বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, গির্জা মহল্লা, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, নতুনবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গত কয়েক দিন ধরে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তীব্র যানজট দেখা গেছে। এর বাইরেও জাহানারা ইসরাইল স্কুলের সামনের সড়ক কলেজ রোড, কাকলীর মোড়, বাজার রোড, হাসপাতাল রোড, বিএম কলেজ রোড, বাংলাবাজার, সাগরদী বাজারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট বেড়েছে।
নগরীর বাসিন্দা মো. আল-আমিন বলেন, বর্তমানে নগরীতে চলাচল করার মতো কোনো উপায় দেখছি না। এত গাড়ি আর ফুটপাতে এত এত দোকান, এগুলো নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখছি না। প্রশাসনের কাছে আমাদের নগরবাসীর দাবি যত দ্রুত সম্ভব নগরীর যানজট নিরসন করা হোক।
বিএম কলেজ শিক্ষার্থী মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘যানজটের কারণে কলেজের সামনের সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। কখনো কখনো
নথুল্লাবাদ দিয়ে অটোতে চড়লে মাঝপথে হেঁটে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। আমরা এ যানজট থেকে মুক্তি চাই।’
বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দিন দিন নগরীতে চলাচল করা অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে। এখনই সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার তানভীর আরাফাত জানান, রমজান ও ঈদ কেন্দ্র করে নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। এ ছাড়া কন্ট্রোল সেন্টার চালু করে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সড়ক মনিটরিং করে তাৎক্ষণিক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি বিপণিবিতানগুলোর সামনে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকার সড়কে বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর ফুটপাত দখলে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, অসচেতন চালকরা সড়কে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি পার্কিং করে রাখছে। পুলিশ সেখানে গেলে তাদের সঙ্গেও বাগ্বিতণ্ডায় জড়াচ্ছে চালকরা। ফুটপাত দখলে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহরে লোকসংখ্যা বেশ কিছুদিনের মধ্যে তিনগুণ বেড়ে গেছে। এই মুহূর্তে সড়কের ক্যাপাসিটি তো বাড়ানো যাবে না। তাই বর্তমানে আমরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাড়তি ফোর্স মোতায়ন করেছি। আমরা চেষ্টা করছি যানজট নিরসন করা জন্য।’