নানা নাটকীয়তার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচিত ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিদায়ী সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
খোকনের সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাচিত সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হকসহ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য নির্বাচিতরা। দায়িত্ব গ্রহণের আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বারের দক্ষিণ হলে সমমনা আইনজীবীদের সমর্থন পেতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তিনি। তবে এ সভায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবীদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সভায় ব্যারিস্টার খোকন শীর্ষ আইনজীবীদের ইঙ্গিত করে তাদের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন ফোরামের কয়েকজন আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ী করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা (ফোরামের আইনজীবী) গণতন্ত্র ও ভোটের জন্য আন্দোলন করেন। কিন্তু আমার ঘরেই তো সমস্যা।’
গত ৬ ও ৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। ৯ মার্চ ঘোষিত ফলে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির তিনটি সদস্যপদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্যানেল ‘নীল দলের’ প্রার্থীরা জয়ী হন। অন্যদিকে সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ ১০টি পদে জয়ী হন সরকারপন্থিরা। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ করেন সরকারবিরোধী আইনজীবীরা। নির্বাচনে মারামারিকে কেন্দ্র করে নীল দলের সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ বিএনপিপন্থি বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মার্চ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী এবং ফোরামের মহাসচিব ও দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ব্যারিস্টার খোকনসহ সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে জয়ী ফোরামের চারজনকে দায়িত্ব গ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।