সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী- শিক্ষকদের বদলি হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। বছরের অক্টোবর মাসে এ বদলি আবেদন নেওয়া হবে। যদিও যৌক্তিক কারণ থাকলে সরাসরি আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া নতুন নিয়মে সমতলের শিক্ষকদের অন্তত ১ বছর পাহাড়ি অঞ্চল, দুর্গম চর ও হাওর অঞ্চলে চাকরি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সুষ্ঠু ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বদলি নীতিমালা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন। এতদিন বদলি নীতিমালা না থাকায় শিক্ষকেরা নানামুখী দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। দূর-দূরান্ত থেকে কর্মস্থলে আসতে হতো তাদের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকেরা দাবি করে আসছিলেন বদলি নীতিমালা হোক।
প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষে সরকারি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা না থাকায় এবং বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিপত্র-অফিস আদেশ যুগোপযোগী করার উদ্দেশে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো।
নীতিমালার আওতা নিয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরের সরকারি শিক্ষকদের বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে, সরকার জনস্বার্থে যেকোনো সময় যেকোনো শিক্ষককে বদলি-পদায়ন করতে পারবে।
বদলির সময়কাল নিয়ে বলা হয়েছে, প্রতি শিক্ষাবর্ষে শুধুমাত্র অক্টোবর মাসে আগ্রহী শিক্ষকদের বদলির আবেদন করতে পারবেন। এই সময়সীমা ব্যতীত অন্য কোনো সময়ে বদলির জন্য আবেদন করা যাবে না। তবে, অনিবার্য পরিস্থিতিতে শুধু সিনিয়র সচিব বা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বরাবর আবেদন করা যাবে। মহানগর ও জেলা সদরে কর্মরত শিক্ষকের চাকরি একই প্রতিষ্ঠানে টানা ৬ বছরের বেশি হলে তাকে নিজ জেলায় অথবা কর্মস্থলের পাশের জেলায় বদলি করা হবে। বদলির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিজ জেলা/পার্শ্ববর্তী জেলায় পদায়নে গুরুত্ব দেওয়া, সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে অন্য বিষয়ে শিক্ষক বদলি/পদায়ন না করা হবে।
আবেদনের শর্তে বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মস্থলে চাকরিকাল তিন বছর পূর্ণ হতে হবে, বদলির জন্য উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে। এ ছাড়া সমতলের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে পার্বত্য (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) অঞ্চলে এবং দুর্গম চর ও হাওর অঞ্চলে বদলি করা হলে তাকে এক বছর সেখানে চাকরি করতে হবে। এরপর তিনি অন্য জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন।