জুমাতুল বিদায় মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

পবিত্র জুমাতুল বিদা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য শুক্রবার জুমার নামাজের নির্ধারিত সময় আগেই মসজিদে হাজির হন। এরপর বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা। এ সময় আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।

আজানের পরপরই শুরু হয় খুতবা। আলোচনায় আবারও মনে করিয়ে দেওয়া হয়, পবিত্র এ মাসের ফজিলতের কথা। নামাজ পূর্ব বয়ানে খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন পবিত্র মাহে রমজান, শবেকদর, জুমাতুল বিদার তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা করেন। জাকাত ও ফিতরা আদায়ের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে উপস্থিত মুসল্লিদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। নামাজ শেষে খতিব দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং শান্তিকামনা করে মোনাজাত করেন। এ সময় মুসল্লিদের আমিন-আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে যায় পুরো মসজিদ। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক মুসল্লি।

মুসল্লিরা বলছেন, আজকের জুমাতুল বিদা কার্যত রমজান মাসকে বিদায় জানানো। এ মাসে ক্ষমাপ্রার্থীর বড় সুযোগ হাতছাড়ার ভয়ে তারা ভীত। এ ছাড়া এ মাসে আল্লাহর রহমত পাওয়ার মহাসুযোগ। তাই শেষ সময় হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে তারা উদ্গ্রীব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজানের আগেই ঢাকার মসজিদগুলোতে লোকজন উপস্থিত হতে থাকেন। মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে সড়কে চাদর বিছিয়ে নামাজে অংশ নেন।

রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নামাজের আগে বয়ান করেন খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন। তিনি মুসল্লিদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। এরপর বিশেষ মোনাজাত করেন।

অনেক মুসল্লি বলেন, ‘আল বিদা, আল বিদা, ইয়া শাহরু রমাদান।’ অর্থাৎ, বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। জুমাতুল বিদা রোজাদারকে স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানের শেষলগ্নে এর চেয়ে ভালো কোনো দিন আর পাওয়া যাবে না।

রমজান মাসের শেষ জুমার এ দিনটিকে মুসলিম বিশ্ব ‘জুমাতুল বিদা’ হিসেবে পালন করে থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এ বিশেষ দিন পালিত হলো।