কর্তাদের দুর্নীতিতে খাবার পান না প্রবীণ নিবাসের বাসিন্দারা

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে বসবাসকারী একজন বাসিন্দা ইফতার, সেহরি ও রাতের খাবারের জন্য বরাদ্দ পান মাত্র ১০০ টাকা। দ্রব্য মূল্যের উর্ধধগতির বাজারে প্রবীণ নিবাসে বসবাসকারী এই প্রবীণরা প্রতিবেলা খাবারের জন্য বরাদ্দ পান মাত্র ১০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে যে খাবার হয় তা দিয়ে তাদের ক্ষুধার নিবারণ হয় না। তবে প্রবীণরা খাবার না পেলেও এই নিবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রয়েছে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এই প্রবীণরা জীবন সায়াহ্নে। পবিত্র রমজান মাসে বয়স আর পারিপার্শ্বিক চাপে নতজানু এই প্রবীণরা তৃপ্তি করে খাওয়ার তো সুযোগ পান ই না, উপরন্তু যে খাবার পান তা দিয়ে খিদে নিবারণও হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নিবাসে বসবাসকারী এক প্রবীণ বলেন, রাতের খাবার ও সেহরিতে মাছ কিংবা মাংস দিলেও তার সাইজ এত ছোট যে প্লেটে খুঁজেও পাওয়া যায় না। সেহরিতে একটু ভালো খাবার না থাকলে তা দিয়ে খাওয়া যায় না। ইফতারে অল্প কিছু ছোলা, মুড়ি, জিলাপি দেয় এগুলো দিয়ে ইফতার হয় না। ফলে আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে  খাবার খাই।

প্রবীণ নিবাস সূত্রে জানা যায়, এই নিবাসে ৩৬ জন প্রবীণ বসবাস করেন। তাদের খাবারের জন্য বরাদ্দ থাকে ১০০ টাকা। নিবাসের ফান্ড না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেড় বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে আন্দোলনে নামছেন একদল কর্মচারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, এখানে যারা চাকরি করেন তারা আমাদের সেবা করতে চান না। তারা কথায় কথায় খারাপ আচরণ করেন। গত কিছুদিন ধরে সবাই মিছিল মিটিং করে বেড়াচ্ছে। এখানে যে খাবার পাই তা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ হয় না।

নিবাসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি (বাইগাম) দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মে ডুবতে বসেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন এর ১১৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়ে থাকে। পরিচালনা পর্ষদের দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ও ভাতা বন্ধ রয়েছে বাইগামের ১১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। বাইগাম মূলত পরিচালিত হয় তিন বছর মেয়াদি একটি কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা। এই কমিটিতে যখন যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম করেছেন এবং বিভিন্ন ফান্ডের টাকা তছরুপ করেছেন। কার্যনির্বাহী কমিটির সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে সংঘটিত দুর্নীতির কারণেই মূলত ডুবছে প্রতিষ্ঠানটি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কর্মচারীদের।