বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনসার সদস্য ও নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনসার ক্যাম্পের হাবিলদার শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে রামপাল থানায় মামলাটি করেছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০-৪০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
হামলার ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গত বুধবার রাতে জেলার রামপালে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ মালিকানার কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যাটেরিয়াল ইয়ার্ডে একদল দুর্বৃত্ত লোহার সরঞ্জাম চুরি করতে এসে বাধা পেয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্য ও নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হয়।
রামপাল থানার ওসি সোমেন দাশ দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি চক্রের সঙ্গে বহিরাগত এই চোরদের যোগসাজশ রয়েছে বলে নিরাপত্তাকর্মীরা স্বীকার করেছেন। তারা অবিলম্বে চক্রটিকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
মেটেরিয়াল ইয়ার্ডের নিরাপত্তারক্ষী নারায়ণ বিশ্বাস ও ফিরোজুল ইসলাম বলেন, গত সাত বছর ধরে এখানে চাকরি করেন তারা। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চুরি করে আসছে। কখনো নদী পথে কখনো সড়ক পথে। বিভিন্ন সময়ে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে।
তারা বলেন, এই কেন্দ্রে অনেক লোকজন কাজ করতে আসে। তারা এখানে মাল রেখে যায়। তাদের মাধ্যমে চোরেরা কি আছে না আছে সে খোঁজ পায়। তারাই চোরদের খবর দেয়।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মঙ্গলা হরিদ্রান এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যাটেরিয়াল ইয়ার্ড থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম চুরির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি দেখছেন।