দিলরুবা হোসেন দোয়েল ২০১৫ সালে দেশের শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন। র্যাম্প থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় নিজের অভিনয় দিয়ে কেড়েছেন সমালোচকদের দৃষ্টি। রংপুরের দোয়েল রাজশাহীর ভাষা আত্মস্থ করেছেন। ঈদে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্র পটু। চলচ্চিত্র ও সমসাময়িক বিষয়ে দোয়েলকে নিয়ে লিখেছেন মাহতাব হোসেন
গল্পের ছবি
আমার মতে পটু গভীর গল্পনির্ভর একটি সিনেমা। দুর্গম এলাকার জীবনাচরণ ও তাদের গল্পের কথা যদি আমার শুটিং অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি দুর্গম এলাকার মানুষের একবারের প্রাকৃতিক জীবনযাত্রা ও সংকট দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। আমি বিশ্বাস করি পটু দর্শক টানতে পারবে। যারা দেখবেন, আমার মনে হয় তারা পটু নিয়ে কথা বলবেন।
চরিত্রের দেহ
আমার সবসময় বিভিন্ন রকম চরিত্রে অভিনয় করতে ভালোবাসি। পটু চলচ্চিত্রে আমার চরিত্রটার নাম জমেলা। এই জমেলা শুধু পেটের জন্য পতিতাবৃত্তিতে নামে। যেহেতু এটা চর এলাকা তাই সবসময় এত উত্তাল অবস্থায় থাকে... সে অর্থে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চল। এমন এক জায়গায় মানুষজন নানাভাবেই জমেলাকে ব্যবহার করে। এই এতদিন যেসব চরিত্রে কাজ করে এসেছি তারচেয়ে এই চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে আমার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই চরিত্র নিয়ে আমি আশাবাদী। রাজশাহীর ভাষা আত্মস্থ করতে কষ্ট হয়েছে কিন্তু পরে ঠিক হয়ে গেছে।
দুর্গম অঞ্চল
যেখানে পটুর শুটিং হয়েছে সেখানে এর আগে কখনো শুটিং হয়নি। অনেকে জানেই না আধুনিকতার ছোঁয়া কী! লোকেশন যেমনই হোক যতটা দুর্গম হোক কিংবা যতই কষ্টকর অঞ্চল হোক দৃশ্যায়নের জন্য ভালো হলে, প্রয়োজন হলে আমি সেটা করি, উপভোগ করি; আমাকে কষ্ট দেয় না। বাস্তবিক লোকেশন হওয়ায় আমার চরিত্রটাকে আমি ভালোভাবে প্রকাশ করতে পেরেছি।
নেশার মতো চরিত্র
একজীবনে কতগুলো চরিত্রতে কাজ করে যাব জানি না। সেই আলফা থেকে চন্দ্রাবতী কথা, লাল মোরগের ঝুঁটিতে বিচিত্ররকম চরিত্রে কাজ করেছি। আমার কাছে চরিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে একটা কথা প্রচলিত আছে, আপনি চন্দ্রাবতী কথাতে মেইন প্রোটাগনিস্ট, আলফাতে মেইন প্রোটাগনিস্ট করে আবার এখানে কেন এই চরিত্র করছেন? আসলে আমার কাছে হচ্ছে ভালোবাসা, আমি চরিত্রটাকে ভালোবাসি। আমাদের দেশে অভিনয় করার সুযোগটাও কম এজন্য আমার কাছে মাধ্যমটা বিষয় না, সেটা ওটিটি হতে পারে, সিনেমা হতে পারে, নাটক হতে পারে ইউটিউব হতে পারে। চরিত্রটাকে যদি আমি ভালোবাসে ফেলি তাহলে আমি আসলে কাজটা করতে চাই। প্রতিদিন একেক রকম হয়ে ওঠা বা একেক রকম চরিত্র লালন করা একরকম নেশার মতো।
বই টানে এখনো
অভিনয়ের পাশাপাশি এখন সময়টা বেশি কাটে মুভি দেখে। ছোটবেলা অভ্যাস ছিল বই পড়ার। রকিব হাসানের তিন গোয়েন্দা প্রচুর পড়েছি। এত বই তো কেনা হতো না। তখন আমরা ভাড়া করে নিয়ে আসতাম। আমাদের এলাকায় বই ভাড়ায় পাওয়া যেত। এছাড়াও শীর্ষেন্দু, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ পড়েছি। এখন নতুন যারা লিখছে তাদের বইও পড়া হয়, প্রতি বছর বইমেলায় যাওয়া হয়। পড়তে ভালো লাগে এখনো কিন্তু অনেক বেশি পড়ার সুযোগ হয় না।
হীনমন্যতা নয়
বুলিং, হীনমন্যতা এসব থেকে অন্তত আমাদের ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের দূরে থাকা উচিত। আমরা এভাবেও ভাবতে পারি, আজ আমি ছোট মানুষ কাল বড় হতে পারি। আজ ছোট জায়গায় আছি, কাল বড় জায়গায় যাব। আমরা বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের জীবনাদর্শ বিশ্লেষণ করে দেখি, সবাই কিন্তু সংগ্রামী জীবন শেষ করে নিজের অবস্থানে এসেছেন। আমাদের দেশে কাজের পরিবেশ বেশ ভালো, কাজের পরিধিও বেড়ে গেছে, কাজের সুযোগও বেড়ে গেছে। ওটিটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। কাজটাই আমি করে যেতে চাই।