ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’
গতকাল রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘সাজানো মিথ্যা মামলায় জর্জরিত বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় সব নেতাকর্মী। কারও কারও বিরুদ্ধে ৪০০ থেকে ৫০০ মামলাও রয়েছে। একদিকে মামলার চাপ আরেক দিকে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে এবারও ঈদ করতে হচ্ছে দলটির অজস্র নেতাকর্মীকে। অবৈধ ও ডামি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে রাজনৈতিক মামলায় বন্দি হন এসব নেতাকর্মী।’
তিনি বলেন, ‘বাকশাল-টু সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনে মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে নিরানন্দ ও বেদনাদায়ক। গত বছরের ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বিএনপির কর্মসূচি ঠেকাতে দলের মহাসচিব এবং অনেক শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি করা হয়। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বেশিরভাগের জামিনে মুক্তি মিললেও পরে আবারও নতুন মামলায় অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ১০০ মামলায় কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ নেতাকর্মীকে আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শাহিদা রফিক, তাহসিনা রুশদির লুনা, মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণকালে রিজভী বলেন, ‘এখানে স্বাধীনতা আছে কি না, আমরা বলতে পারি না, সার্বভৌমত্ব রয়েছে কি না, আমরা জানি না। এখানে অন্য দেশের বিভিন্ন অস্ত্রধারী সংগঠন ও সন্ত্রাসী আমাদের দেশে ঢুকে ব্যাংক লুট করছে, হামলা করছে। তারা বাংলাদেশের থানা লুট করছে, অস্ত্র লুট করছে। মানুষ হত্যা করছে। একই জেলার বেশ কয়েকটি থানায় আক্রমণ করেছে, ব্যাংক লুট করেছে।’