রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে ভোরে একটি বাসায় ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হামলা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও স্বজনদের।
আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কালশী বাউনিয়া 'সি' ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর টিনশেড বাসায় এঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী ইদ্রিস আলী (৪০) ও তার স্ত্রী চাদনী আক্তার (৩০)। চাদনী গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিলুথি গ্রামে।
আহত ইদ্রিস জানান, ভোরে সাহরি খেয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ঘুমিয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় ইয়াসিন, সোলাইমান, মোহাম্মদ আলী ও জাকির তাদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর প্রথমে তার স্ত্রী চাদনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এটি দেখে ইদ্রিস তাদের বাধা দিলে তাকেও কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
আহত চাদনী জানান, ইয়াসিনের সাথে তাদের পারিবারিকভাবে ভালো সম্পর্ক। নিয়মিতই তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। গতকাল রবিবার রাতে ইয়াসিন তার সঙ্গীদের নিয়ে তাদের বাসায় আসে। তারা আসার পর বাসা থেকে ইদ্রিসের মোবাইল চুরি হয়ে যায়। এর প্রায় ১ ঘণ্টা পর চুরি হওয়া ফোনটি মোহাম্মদ আলীর কাছে পাওয়া যায়। তখন তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ইদ্রিস ইয়াসিনকে একটি চড় মারেন। চড় খেয়ে ইয়াসিন তার সঙ্গীদের নিয়ে ওই বাসা থেকে চলে যায়। তবে তার জের ধরেই ভোরে ধারালো অস্ত্রসহ তাদের বাসায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে।
এদিকে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ভোরে স্বজনরা গুরুতর আহত দুজনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। ইদ্রিসের মাথায়, ঘাড়ে ও ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আর চাদনীর মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত। তাদের দুজনকেই চিকিৎসকরা নাক, কান, গলা বিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ঘটনাটি পল্লবী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।