ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষের টানা ছুটিতে চায়ের রাজ্যখ্যাত জেলা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পর্যটকদের বরণের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে চায়ের রাজ্যকে। লেক, পাহাড়, উদ্যান, ঝরনা আর চা-বাগানের সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছরই ঈদ কিংবা বিভিন্ন ছুটির দিনে ভিড় জমান পর্যটকরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বেশিরভাগ হোটেল-রিসোর্ট-কটেজের রুমগুলো বুকিং হয়ে গেছে। বাকিগুলোও আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও চা-বাগান বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ছোট পাহাড়-টিলা দেখতে ভিড় জমান পর্যটকরা। বছরের সব সময়ই মৌলভীবাজারে পর্যটকদের ভিড় জমলেও পর্যটনকেন্দ্রগুলো বর্ষা মৌসুমে স্বরূপে ফিরে আসে। মেলে ধরে নিজেদের সৌন্দর্য। এবারের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে লক্ষাধিক পর্যটকের উপস্থিতি আশা করছেন তারা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেক ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।
লাউয়াছড়ার ট্যুরিস্ট গাইড আহাদ মিয়া বলেন, ‘সম্প্রতি বৃষ্টির ফলে লাউয়াছড়া বনের সৌন্দর্য আরও বেড়েছে। বনের পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত আমরাও।’
ট্যুরিজম কমলগঞ্জের সমন্বয়ক শাব্বির এলাহী বলেন, ‘জেলার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের সময়ে কমলগঞ্জে লক্ষাধিক পর্যটকের উপস্থিতি ঘটবে।’
শ্রীমঙ্গলের পাঁচতারকা মানের হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের মহাব্যবস্থাপক আরমান খাঁন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের রিসোর্টে ঈদের জন্য বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়েছে।’
কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পর্যটকরা প্রতি বছর ঈদের সময়টাতে চায়ের রাজ্যে সপরিবারে ঘুরতে আসেন। ইতিমধ্যে আমাদের কটেজের সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা পর্যটকদের বরণ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। কোনো পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।’
অন্যদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ জাদুঘর), ঐতিহাসিক পানাম নগরী ও বাংলার তাজমহল কর্তৃপক্ষ। এসব দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য দর্শনার্থীদের বাড়তি চাপ সামলাতে ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সোনারগাঁ থানা পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম। এ ছাড়া এসব দর্শনীয় স্থানের সড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে ঈদের ছুটিতে পহেলা বৈশাখে সোনারগাঁ জাদুঘরে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে সোনারগাঁ জাদুঘরে লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে। বৈশাখী মেলায় বাহারি কারুপণ্যের সমাহার ছাড়াও লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক একেএম আজাদ সরকার জানান, সোনারগাঁ রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি হওয়ার কারণে ঈদের ছুটিতে এখানে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে। এবার ঈদের ছুটিতে সোনারগাঁ জাদুঘরে ১৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন দর্শনার্থীদের আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে।