স্বজন হারানোর শোকে গাজায় ঈদ

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন যখন নিজের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া শুরু করে, এর পর থেকে এবারের মতো ভয়ংকরতম মুহূর্ত সম্ভবত ফিলিস্তিনিদের সামনে আসেনি। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, বুলেট আর বোমার মাঝে প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এক জনপদে গাজার মুসলিমরা তাদের প্রধানতম ধর্মীয় উৎসব পালন করতে যাচ্ছে। মিসরের রাজধানী কায়রোতে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো কোনো আশার আলো দেখা যায়নি। অথচ গাজায় ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিকারাগুয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) যে মামলা করেছিল, তা নিয়ে গতাকল সোমবার শুনানি হয়েছে।

মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজান শেষ হয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। গত রবিবার হঠাৎ গাজার দক্ষিণ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা তুলে নেয় ইসরায়েল। এখনো গাজার আগ্রাসন থেকে পরিপূর্ণভাবে সরে আসেনি তারা। গাজায় এখন খাদ্যাভাব চরম। পানি, ওষুধের মতো সামগ্রীর তীব্র অভাব। ঈদে অন্যান্য মুসলিমের মতো ফিলিস্তিনিরাও উৎসবে মেতে থাকে। কিন্তু এবার তাদের স্বজন হারানোর বেদনার সঙ্গে মারাত্মক আহত হওয়া মানুষের আর্তনাদ দেখা যাচ্ছে। বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। তবুও ঈদ সামনে রেখে দক্ষিণ গাজায় নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

ছয় মাস ধরে চলা গণহত্যার মধ্যে মসজিদ, উদ্যান, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং উপকূলের মতো প্রাকৃতিক জায়গাও আক্রমণের মুখে পড়েছে। গাজার কোনায় কোনায় গণহত্যার আলামত স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি জনপদকে নিঃশেষ করে দেওয়ার নজির এখানে তাজা।

এদিকে গতকাল নিকারাগুয়ার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা মামলার শুনানিতে হাজির হন। দেশটি আইসিজের শুনানিতে অংশ নিয়ে বলে, গাজায় আগ্রাসন চালাতে থাকা ইসরায়েলকে যেভাবে জার্মানি সামরিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।

আদালতে নিকারাগুয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কার্লোস জোসে আরগুয়েল্ল গোমেজ। ইসরায়েলকে যাতে সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে আদালতের কাছে আবেদন জানায় দেশটি। দুই দিনব্যাপী শুনানির প্রথম দিনে ১৬ জন বিচারকের সামনে তিনি বলেন, ‘জার্মানি গণহত্যা প্রতিরোধে এর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণও করতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষা ও গণহত্যার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি।

গত শুক্রবার জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান ফিসচার বলেন, ‘জার্মানি গণহত্যার সনদ লঙ্ঘন করেনি, কিংবা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনও ভাঙেনি। ’

মিসরের রাজধানী কায়রোতে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে যে আলোচনা চলছে, তার কোনো ফলপ্রসূ অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব। গতকাল সকালে হামাস নেতৃত্ব জানান, কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কায়রোর ওই আলোচনায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর শীর্ষ কর্তা, কাতারের প্রতিনিধিসহ ইসরায়েলের কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছেন। ঈদের আগে যুদ্ধবিরতি হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কথা বলতে পারেনি কেউই।